বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৩
TheWall
TheWall

বন্ধুর জন্মদিনে পার্টির হুল্লোড় নয়, চলমান একটা ব্লাডব্যাঙ্ক বানিয়ে ফেলল কাটোয়ার ছেলেরা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

কৌশিক দত্ত, কাটোয়া : হৈ হুল্লোড়, পার্টি, পেট পুজো। বন্ধুর জন্মদিন মানে তো এটাই দস্তুর। কিন্তু এতেই থেমে থাকলেন না কাটোয়ার বাসুদেব, নরেন, দিব্যেন্দুরা। দিনটাকে স্মরণীয় করতে ২০ জন মিলে তৈরি করে ফেললেন চলমান ব্লাড ব্যাঙ্ক। অঙ্গীকার করলেন, রাজ্যের যেখানেই যাঁর রক্ত লাগবে, তাঁদের জানালে উপস্থিত হয়ে যাবেন তাঁরা। সবাই মিলে রক্তদান করে শুরুও করে দিলেন ব্লাড ব্যাঙ্কের যাত্রা।

কেউ কলেজ পড়ুয়া, কেউ চাকরি পেয়েছেন সদ্য। কারও বাড়ি কাটোয়ার মাস্টারপাড়ায়, কারও গৌরাঙ্গপাড়ায়, কেউ আবার কাটোয়ারই ক্ষ্যাপা কালীতলার বাসিন্দা। দিনভর কাজকর্মে যে যেখানেই থাক, সন্ধ্যায় ঠিক দেখা হবে পাড়ার ঠেকে। আজ ৮ই অগাস্ট বাসুদেব, নরেনদেরই বন্ধু রাকিব আর জাভেদের জন্মদিন। আড্ডার ছলে সে কথা জানার পরেই প্রস্তুতি শুরু যায় জন্মদিন পালনের। ঠিক হয় পার্টি-সার্টিতো হবেই, সঙ্গে আরও অন্য কিছুও।

যেমন ভাবা, তেমন কাজ। যোগাযোগ করা হয় কাটোয়ারই বেসরকারি হেমরাজ ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। কুড়ি জন বন্ধুর নামের তালিকা দিয়ে জানানো হয় এই চলমান ব্ল্যাড ব্যাঙ্কের অস্তিত্ব। একই সঙ্গে আজ সকালে সেখানে গিয়ে রক্ত দিল ২০ জনের এই দল।

হেমরাজ ব্ল্যাড ব্যাংকের আধিকারিক ডা: বাণীব্রত আচার্য বলেন, “দুই বন্ধুর জন্মদিনে রক্তদান ও চলমান ব্ল্যাড ব্যাঙ্ক তৈরি করে মুমূর্ষু  মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার সত্যিই একটা দৃষ্টান্ত। এমন নজির আরও হলে আমাদের সমাজের মঙ্গল।”

বেডে শুয়ে রক্ত দিতে দিতে রাকিব চৌধুরী বললেন, “জন্মদিনে আমাকে দেওয়া বন্ধুদের এই উপহার স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা যেন কখনও থেমে না যাই।” আর জাভেদ হাসানের কথায়, “অবশ্যই জন্মদিনে আমার পাওয়া সেরা উপহার এটাই। আমাদের দেখে সাধারণ মানুষজনও রক্তদানে উৎসাহিত হলে আমাদের পরম পাওনা হবে তা।”

ওঁদের বাকি বন্ধুরা বলছেন, “হুল্লোড় করে প্রতিবারই আনন্দ করি। এভাবে যে অনেক বেশি আনন্দ পাওয়া যায় জানতাম না।”

আরও পড়ুন: 

৬০ বছর ধরে রক্তদান করছেন অস্ট্রেলিয়ার জেমস হ্যারিসন, বাঁচিয়েছেন ২৪ লক্ষ শিশুকে

Share.

Comments are closed.