রবিবার, অক্টোবর ২০

ফুলবাড়িতে স্কুলের পাঁচতলা থেকে পড়ে পড়ুয়ার মৃত্যু, জখম আরও ১

দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়িশিলিগুড়ির কাছে ফুলবাড়িতে একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের তিনতলা থেকে কাচের জানলা ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল নবম শ্রেণির এক ছাত্রের। জখম তার ক্লাসের আরও এক পড়ুয়া। সোমবার দুপুর দুটো নাগাদ ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম ঋষভ আরিয়া (১৫)। দুর্ঘটনায় জখম অপর ছাত্র ঋত্বিক কুমার সিংকে ফুলবাড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার আঘাতও গুরুতর বলে জানা গেছে।

স্কুলের প্রিন্সিপাল রজনী প্রসাদ জানান, লাঞ্চ ব্রেকের সময় হুটোপাটি করছিল ওই দুই ছাত্র। তখনই কোনওভাবে জানলা দিয়ে পড়ে যায় তারা। বিষয়টি টের পেয়েই দ্রুত দুই ছাত্রকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্য়ু হয়েছে একজনের। অন্যজনের চিকিৎসা চলছে। দুই ছাত্রেরই বাড়ি পূর্নিয়ায়। তাদের বাড়িতে খবর পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনও গাফিলতি রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাও।

কয়েক বছর আগে ফুলবাড়ির জিয়াগঞ্জ এলাকায় ওই স্কুলটি তৈরি  হয়েছে। এ দিন টিফিনের সময়  কয়েকজন পড়ুয়াদের চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটায় হতভম্ভ হয়ে পড়ে তারা। জানা গেছে, একটি ক্লাসরুমের জানলার গ্রিল ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় তা খুলে রাখা হয়েছে। সেখানে লাগানো রয়েছে কাচের স্লাইডিং জানালা। সেই ক্লাস ঘরে টিফিনের সময় হুটোপাটি করছিল ঋষভ ও ঋত্বিক। ধাক্কাধাক্কিতেই প্রথমে জানালা দিয়ে পড়ে যায় ঋষভ। সহপাঠিকে বাঁচাতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ঋত্বিক। বন্ধুকে ধরবার চেষ্টা করে টাল সামলাতে পারেনি। দুজনেই তিনতলা থেকে  ছিটকে পড়ে নীচে পড়ে যায়।

স্কুল কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে দু’‌জনকে ফুলবাড়ির একটি নার্সিংহোমে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ঋষভকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।  গুরুতর আহত হয় ঋত্বিকের চিকিৎসা চলছে। তার হাতে এবং পায়ে চোট লেগেছে।  দু’‌জনই ছাত্রই বিহারের পুর্নিয়ার বাসিন্দা। তাদের বাড়িতে খবর পাঠানো হয়েছে।

জখম ছাত্রের বাবা গোপাল কুমার শিলিগুড়িতে সিআরপিএফে কর্মরত। খবর পেয়েই তিনি ছুটে আসেন নার্সিংহোমে। সেখানে তিনি স্কুলের নিরাপত্তা  নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “জানলার গ্রিল না থাকা সত্বেও কেন সেখানে ক্লাস নেওয়া হচ্ছিল ?‌ ওই ঘর তালা বন্ধ করে রাখলে এ ভাবে প্রাণ খোয়াতে হত না।”

প্রিন্সিপাল রজনী প্রসাদ বলেন, “তিন তলার গ্রিল নষ্ট হওয়ায় তা খুলে রাখা হয়েছিল। নতুন গ্রিল লাগানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেই মুহূর্তেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেল।”

উত্তরবঙ্গ গার্জেন ফোরামের সভাপতি সন্দীপন ভট্টাচার্য বলেন, “অনেক আশা নিয়ে ছেলে–মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য এসব স্কুলে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু সেখানে সুরক্ষার এমন হাল। বেঘোরে প্রাণ গেল একটি বাচ্চা ছেলের। স্কুলগুলোর ভাবা উচিৎ।”

Comments are closed.