নবাবি ইতিহাসের পাতায় বন্দি হারিয়ে যাওয়া প্রেম, টেলি পর্দা মাতাবে নতুন পিরিয়ড ড্রামা ‘আমি সিরাজের বেগম’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    চৈতালী চক্রবর্তী

    এক অমর প্রেম কাহিনীর পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। ষড়যন্ত্র-বিশ্বাসঘাতকতা-রাজনীতির বেড়াজালে হাঁসফাঁস করা প্রেম আজও কালের পাতায় অমলিন। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার শাসনকাল এবং প্রিয়তমা পত্নী লুৎফুন্নেসার সঙ্গে তাঁর প্রেম নিয়েই স্টার জলসার নতুন পিরিয়ড পিস ‘আমি সিরাজের বেগম’।

    শাশুড়ি-বৌমার ঝগড়া-কাজিয়া দেখতে দেখতে ক্লান্ত দর্শক ভিন ধারার গল্পের দিকে মজেছে বহুদিন আগেই। দর্শকের চাহিদার কথা মাথায় রেখে তাই দশ বছর পূর্তিতে ‘চলো পাল্টাই’ স্লোগান তুলেছে জলসাও। প্যানপ্যানানি ইমোশনকে গুডবাই জানিয়ে জলসায় এখন স্মার্ট, চৌখস ধারাবাহিকের রমরমা। সাহিত্যনির্ভর ধারাবাহিক থেকে ধর্মের শিকড় ছুঁয়ে পিরিয়ড পিসের ছড়াছড়ি। আর সিরাজ এমন একটা চরিত্র যাকে নিয়ে নানা রকম মিথ রয়েছে। ইতিহাসের পথে হেঁটেই তাই ধারাবাহিকের চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে। শ্রীপারাবতের বই আমি সিরাজের বেগম অবলম্বনে দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার এই নতুন সংযোজন টিভির পর্দা মাতাবে আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে। গোটা কাহিনীই ধরা পড়বে সিরাজের বেগম লুৎফার দৃষ্টিভঙ্গিতে।

    বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব মির্জা মহম্মদ সিরাজউদ্দৌল্লার দ্বিতীয়া স্ত্রী লুৎফুন্নেসা। প্রথমে মুর্শিদাবাদের নবাবি হারেমের একজন সাধারণ হিন্দু পরিচারিকা ছিলন লুৎফা। সিরাজের মা আমিনা বেগমের দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল তাঁর উপর। তাঁকে ডাকা হতো রাজকুনোয়ার নামে। লুৎফার রূপে-গুণে মুগ্ধ সিরাজ তাঁকে বিয়ে করেন এবং বেগম পরিচয় দিয়ে নাম রাখেন লুৎফুন্নেসা বেগম। ১৭৪৮ সালে সিরাজের বাবা বিহারের নায়েব নাজিম জৈনুদ্দিন আহমদ জঙ্গ নিহত হওয়ার পর শাসনভার গ্রহণ করেন সিরাজ। পলাশি বিপর্যয়ে ১৭৫৭ সালে মীরজাফরের ষড়যন্ত্রে সিরাজের হত্যার পর প্রথমে মুর্শিদাবাদে ও পরে ঢাকার জিনজিরা প্রাসাদে সাত বছর বন্দি করে রাখা হয় লুৎফাকে। সিরাজের মৃত্যু পরে প্রায় ৩০ বছর বেঁচেছিলেন লুৎফা। নবাবি রাজঅন্তঃপুরের নিষ্পেশন ও জীবনের বাকি দিনগুলির নিদারুণ সংগ্রামের গল্প অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ধারাবাহিকের প্রতিটি পর্বে।

    যে কোনও পিরিয়়ড ড্রামার ক্ষেত্রে বদলে যায় তার ক্যানভাস। একই সঙ্গে পাল্টায় চরিত্রের সাজপোশাক, আলোর কাজ, মিউজ়িকের অনুষঙ্গ। দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়া জানাচ্ছে, নবাবি ঘরানার সঙ্গে মানানসই পোশাকের সঙ্গে নজর কাড়বে তার গয়নার সম্ভার। শিশ মহল, রাজ দরবার, জেনানা মহল থেকে নবাবের অন্দরমহল, সবেতেই থাকবে অষ্টাদশ শতকে বাংলার নবাবি মহলের আমেজ। ছোট পর্দায় এই আমেজই যোগ করবে এক আলাদা গ্র্যাঞ্জারের। পাশাপাশি অনুঘটক হিসেবে সেই বিশেষ পিরিয়ডের পরিবেশ, গন্ধ, আবহ আর গল্প তো রয়েছেই। প্রযোজক রানা সরকারও জানালেন এমন কথাই। বললেন,“বাংলা টেলিভিশনের বিপুল সংখ্যক দর্শককে নতুন কিছু উপহার দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। নবাবি আমল এবং সিরাজকে নিয়ে এর আগে কোনও পিরিয়ড পিস হয়নি টেলি দুনিয়ায়। চিত্রনাট্যকে নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য তাই আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছি। আশা রাখছি এই ধারাবাহিক দর্শকদের মন জয় করবে।”

    শ্রীপারাবতের ‘আমি সিরাজের বেগম’ উপন্যাস অবলম্বনে বড় পর্দাতে ছবি হয়েছে আগেই। সেখানে প্রধান চরিত্রগুলিতে অভিনয় করেছিলেন বিশ্বজিৎ, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা রায়। টেলি পর্দায় সিরাজ ও লুৎফার চরিত্র চিত্রায়ণে তারকার খোঁজ চলেছিল দীর্ঘদিন ধরেই। নবাবের আভিজাত্যের সঙ্গে মানানসই হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে শন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সুপ্রিয়া দেবীর নাতি শন সুদর্শন তো বটেই, নবাবি মেজাজের সঙ্গে খাপ খেয়েছে তাঁর দুরন্ত অভিনয়। লুৎফার রূপের সঙ্গে ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলেছেন পন্নবী দে। এর আগে ‘রেশমির ঝাঁপি’ ধারাবাহিকে তাঁকে দেখেছে দর্শক। তাঁর অভিনয় প্রশংসিতও হয়েছে। তা ছাড়া, ঘসেটি বেগমের চরিত্রে চান্দ্রেয়ী ঘোষ, মীরজাফরের চরিত্রে বাদশা নজর কাড়বেন সহজেই।

    আরও পড়ুন: পুরনোকে সরিয়ে নতুনকে স্বাগত, ‘চলো পাল্টাই’ স্লোগানে জমজমাট স্টার জলসার দশ বছর

    অষ্টাদশ শতকের বাংলার অনেক না বলা গল্প বলবে ‘আমি সিরাজের বেগম’। গড়পড়তা ধারাবাহিকের মতো পাঁচটা মনগড়া চরিত্র নয়, বরং ইতিহাস প্রসিদ্ধ চরিত্রেরা বাস্তব রূপ নিয়ে জাঁকিয়ে বসে রাজস্ব করবে সন্ধ্যার ড্রয়িংরুমে। নবাবি সাজপোশাক হোক বা রজানীতির অলি-গলি, দর্শককে টেলিভিশনমুখী করার সব মালমশলাই মজুত রয়েছে এই ধারাবাহিকে, এমনটাই জানিয়েছেন স্টার জলসা ও জলসা মুভিজের একজিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চ্যানেল হেড সাগ্নিক ঘোষ। সাগ্নিকের কথায়, “স্টার জলসা সবসময়েই ভিন্ন ধারার গল্প খোঁজে। আত্মশক্তি, আশা ও লড়াই করার গল্প বলে। নবাবি আমলে বাংলার না বলা কাহিনী নিয়েই এই ধারাবাহিক। এই গল্প নতুন করে চলার প্রেরণা যোগাবে, লড়াই করে বাঁচার শক্তি যোগাবে। আমার বিশ্বাস এই ধারাবাহিক দর্শকদের মোহিত করে রাখবে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More