শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

ছিপছিপে থাকতে সকাল ৯টায় সেরে ফেলুন ব্রেকফাস্ট, কী কী রাখবেন প্রাতরাশের থালায়?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায়ই ব্রেকফাস্ট স্কিপ করেন? কলেজ যাওয়ার তাড়া, না অফিসে বসের বকুনি, নাকি প্রেমিকের সঙ্গে ডেট? ডায়েটিশিয়ানরা বলেন ব্রেকফাস্ট দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিল। কারণ ব্রেকফাস্ট থেকেই পাওয়া যায় সারা দিনের এনার্জি। আর হার্ট? সেটার কী করে ব্রেকফাস্ট? গবেষকরা জানাচ্ছেন হার্ট যদি ভাল রাখতে চান তা হলেও কিন্তু রোজ খেতেই হবে ব্রেকফাস্ট।

আর ওজন? সারাদিনের চর্ব-চোষ্য জাঙ্ক ফুড আর হাঁসফাঁস করা হাই ক্যালোরি থেকে মুক্তি পেতে সকাল সকাল প্রাতরাশ করাটা একান্ত জরুরি। বাড়তি ওজন বশে রাখতে দিনের প্রথম খাবার অর্থাৎ ব্রেকফাস্ট অত্যন্ত জরুরি। সারা বিশ্বে চিকিত্সক, ডায়েটিশিয়ান, নিউট্রিশনিস্টরা ক্রমশই জোর দিচ্ছেন ব্রেকফাস্টের গুরুত্বের উপর। এমনকী, ব্রেকফাস্ট না করলে ঠিক কী কী শারীরিক সমস্যা হতে পারে সেই বিষয়েও ক্রমাগত সাবধান করে চলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রেকফাস্ট কিন্তু সেরে ফেলতে হবে একেবারে ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে। ঠিক ৯টার আগেই। সে ছুটির দিন হলেও। হেলেদুলে দেরি করে বিছানা ছেড়ে এক কাঁড়ি তেলে ভাজা লুচি বা পরোটা দিয়ে যদি প্রাতরাশ সেরে মনে হয় অনেক এনার্জি জমা করে ফেলেছেন, তাহলে কিন্তু বিপদ কড়া নাড়ছে আপনার দরজায়। শারীরিক গঠন, ওজন সব বিচার করেই ডায়েটিশিয়ানদের থেকে নিয়ে নিতে পারেন চার্ট। এবং অবশ্যই প্রাতরাশের উপযুক্ত সময়।

আরও পড়ুন : বাচ্চাকে থাইয়ে বসিয়েই এক্সারসাইজ করলেন গুল পনাগ, দেখে অনুপ্রাণিত হবেন আপনিও

লেট নাইট, বেশি সময় কাজ, দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসে কাজের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে ওজন ধরে রাখার যে চ্যালেঞ্জ তা পূরণ হয় সারাদিনের পুষ্টিকর খাওয়া ও নিয়মিত শরীরচর্চা দিয়েই। এবং উপযুক্ত ডায়েটের মধ্যে একটা বিশাল ভূমিকা থাকে ব্রেকফাস্টের।

দেখে নিন কী কী শারীরিক সমস্যা হতে পারে ব্রেকফাস্ট না করলে—

  • নিউ ইয়র্ক সিটিরএক দল বিজ্ঞানীর মতে, যারা নিয়মিত ব্রেকফাস্ট করেন না তাদের মধ্যে কোমরে মেদ জমা, বিএমআই রেট, রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
  • ব্রেকফাস্ট না খেলে ধমনী শক্ত হয়ে আর্থারোস্কেলোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে থাকে।
  • এমনও দেখা গেছে, সাধারণত যাঁরা ব্রেকফাস্ট করেন না তাদের মধ্যে সারা দিনই অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করার প্রবণতা দেখা যায়। অ্যালকোহল ও ধূমপানের নেশাও এদের মধ্যে বেশি লক্ষ করা যায়। যার ফলে ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে হার্টের স্বাস্থ্য।
  • ব্রেকফাস্ট আমাদের শরীরে ফ্যাট বার্নিং এনার্জি বাড়ায়। এটি বাদ দিলে শরীরে মেদ জমার প্রবণতা বাড়ে, যা ওবেসিটির প্রধান কারণ।
  • প্রাতরাশ বাদ দিলে দিলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়।

এখন দেখে নিন ব্রেকফাস্টে কী কী রাখলে মেদ ঝরবে সহজেই—

ব্রেকফাস্টে থাক ওটস। এতেই কমবে মেদ। ১০০ গ্রাম ওটসে রয়েছে প্রায় ১৭ গ্রাম প্রোটিন। দক্ষিণ-ভারতের এই খাবার যেমন পেট ভরায় তেমনই শরীরে জমতে দেয় না মেদ।

মেদ ঝরাতে পনির আপনার খাদ্যতালিকার অন্যতম উপাদান হওয়া উচিত। ফুল ক্রিম নয়, বরং ক্রিমলেস, ডাবল টোনড দুধের পনির কিনুন।

ডিম এমন এক খাবার যা আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ তো দেয়ই, এমনকি, দুধের মতো ডিমের কুসুমকে সুষম আহারের পর্যায়েও ফেলেন অনেক চিকিৎসক। তবে শুধু সিদ্ধ ডিমে পেট ভরে না। মুখের সঙ্গে রুচিতেও বদল আনতে তাই সিদ্ধ ডিম কুচিয়ে তাতে সামান্য পিঁয়াজ, লঙ্কা ও টম্যাটো ও হালকা মশলা মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন ডিম ভুজিয়া। অবশ্যই কম তেলে।

ব্রাউন ব্রেড রাখতে পারেন ব্রেকফাস্টের তালিকায়। এর ফাইবার ময়দার পাউরুটির চেয়ে অনেক বেশি এবং শরীরে সহজেই গ্রহণযোগ্য শর্করার জন্ম দেয়। ফলে মেদ জমে না একেবারেই। ভাল ফল পেতে লো ফ্যাট মাখন বা গ্রিন টি-এর সঙ্গে রাখুন আটার পাঁউরুটি।

ইডলি। দক্ষিণ ভারতীয় এই খাবারেই মিশে আছে ওজন কমানোর মন্ত্র। চাল-ডাল মিলে তৈরি এই ইডলি যেমন স্বাদু তেমনই পুষ্টিকর। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই খাবারকে রাখুন রোজের ব্রেক ফাস্টে।

যদি বেশি কিছু খেতে না চান ব্রেকফাস্টে তাহলে এক কাপ ইয়োগার্ট ও এক বাটি ফল খেতে পারে। এতেও পেট ভরা লাগবে।

একটু মুখ বদলাতে ডিম পোচ, পালং শাক সেদ্ধ ও দু’টো টোস্ট সব দিক দিয়ে খেয়াল রাখবে শরীরের। প্রোটিন, কার্বহাইড্রেট ও ভিটামিনের পারফেক্ট কম্বিনেশন এই ব্রেকফাস্ট।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্রেকফাস্টে খেতে পারেন মাশরুম। মাশরুম পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি অনেক ক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে সারা দিন আমাদের খিদে নিয়ন্ত্রণে থাকে ও ক্যালোরি খাওয়ার প্রবণতা কমে।

Shares

Comments are closed.