কেক কেটে নয়, রক্তদান করে জন্মদিন পালন আঠেরোর তরুণীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া : রক্তদান যে জীবনদান অতশত বোঝার বয়স হয়নি তখন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখতেন রক্ত দিচ্ছেন তাঁর বাবা। ইচ্ছেটাকে তখন থেকেই লালন করেছেন। কিন্তু বাস্তবায়িত করতে পারেননি। বয়সের বাধায়।

    শুক্রবার ১৮ বছর বয়স হল মহিমার। সাবালিকা হলেন তিনি। আর এই দিনই শহরের একটি ব্লাডব্যঙ্কের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে গিয়ে রক্ত দিয়ে জন্মদিনটাকে স্মরনীয় করে তুললেন পুরুলিয়ায় শান্তময়ী গার্লস স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির এই ছাত্রী।

    পুরুলিয়া ভাটবাঁধ এলাকার বাসিন্দা মহিমা দে। ছোট থেকেই দেখেন এলাকায় রক্তদান শিবির হলেই সেখানে গিয়ে রক্ত দিয়ে আসেন তাঁর বাবা সুবীর দে। খুব ছোটতে তেমন কিছু বুঝতে না পেরেই ভাল লাগত বাবার এই কর্মকাণ্ড। পরে বড় হয়ে বাবার মানবিকতায় অনু্প্রাণিত হয়েছেন। জানাচ্ছেন মহিমা। তাঁর কথায়, “একটু বড় হয়ে যখন বুঝতে পারলাম রক্তদান করে কত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি, খুব ইচ্ছে হত রক্ত দেওয়ার। কিন্তু আমার ১৮ বছর বয়স হয়নি বলে রক্ত দিতে পারতাম না। আজ আমার ১৮ বছর বয়স হল। জন্মদিনেই পূরণ হল এত দিনের ইচ্ছে।”

    রক্তদানের উত্তেজনায় আজ কেক কাটা, বন্ধুদের সঙ্গে হুল্লোড় সবকিছুই তাঁর কাছে ছিল গৌণ। সকাল হওয়ার পর থেকেই অপেক্ষা করেছেন কখন বাবার সঙ্গে বেসরকারি ব্লাডব্যাঙ্কের উদ্যোগে আয়োজিত শিবিরে যাবেন রক্ত দিতে। মেয়ের ১৮ বছরের জন্মদিনে তাঁর ইচ্ছেকে সম্মান জানানোর ব্যবস্থা আগেই করে রেখেছিলেন সুবীরবাবু।

    এই রক্তদান অনুষ্ঠনে উপস্থিত জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও পুরুলিয়া পুরসভার উপ পুরপ্রধানও উৎসাহিত করলেন মহিমাকে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অনিলকুমার দত্ত বলেন, “মহিমার এই ভাবনা ওর বয়সের অন্যদেরও প্রেরণা দেবে।”

    মেধাবী ছাত্রী মহিমা রাজ্য ও জাতীয় স্তরে তাইকোন্ডুতে একাধিক পদক জিতে প্ৰশংসা কুড়িয়েছেন আগেই। এ বার তাঁর এই মানবিক ভাবনাকে সম্মান জানালেন পুরুলিয়া শহরের মানুষ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More