শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪

ফাঁসিদেওয়ায় চোলাই খেয়ে মৃত দুই, ঠেক ভাঙচুর স্থানীয়দের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল থেকেই চোলাইয়ের ঠেক ভাঙচুরে নেমেছে উন্মত্ত জনতা। হই চই, চেঁচামেচিতে কার্যত রণক্ষেত্র ফাঁসিদেওয়া ব্লকের নিজামতাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মাদারবক্স গ্রাম। বুধবার রাতেই চোলাই খেয়ে এখানে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। প্রশাসন যদিও বিষমদের কথা স্বীকার করেনি, তবুও বিষমদের আশঙ্কায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গতকাল রাতে এলাকার একটি চোলাইয়ের ঠেকে বসে আকণ্ঠ মদ্যপান করেন দুই যুবক। একজনের নাম বাবুল কর্মকার। অন্যজন তাঁরই বন্ধু। মদ খেয়ে ঠেকেই ঘুমিয়ে পড়েন দু’জনে। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায় দু’জনের দেহই নিথর। রাতেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। ভাঙচুর চলে চোলাইয়ের ঠেকগুলিতে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, এলাকায় চোলাইয়ের ঠেকের বাড়বাড়ন্ত। বহিরাগতদের আড্ডাও রয়েছে এলাকায়। মৃত দু’জনকে প্রায়ই ঠেকে বসে মদ খেতে দেখা যেত।  মৃতদের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর বিষমদের আতঙ্কও ছড়িয়েছে এলাকায়। সংগ্রামপুর বিষমদ কাণ্ডের পর সম্প্রতি শান্তিপুরে বিষমদের বলি হয়েছেন আটজন। তাঁদের বেশিরভাগই ছিলেন শান্তিপুর এবং পূর্ব বর্ধমানের কালনার বাসিন্দা। ২০১১ সালে সংগ্রামপুরে বিষমদ খেয়ে মৃত্যু হয় প্রায় ২০০ জনের। এরপর উস্তি থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ওই মদের ঠেকের মালিক খোঁড়া বাদশা-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে। ২৮ সেপ্টেম্বর মূল অভিযুক্ত খোঁড়া বাদশা সহ ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয় আলিপুর জেলা ও দায়রা আদালত।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সংগ্রামপুর হোক বা নদিয়ার শান্তিপুর, ধরপাকড় ও অভিযান সত্ত্বেও যে জেলায় জেলায় চোলাইয়ের ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে ফের তা প্রকাশ্যে এল শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়ার ঘটনায়।

 

Shares

Comments are closed.