শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪

গোহত্যার তাণ্ডবে হত পুলিশ অফিসার সুবোধকুমারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন যোগী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য জ্বলছে, অথচ তিনি নিষ্ক্রিয়, এমন অভিযোগ ওঠার পরই তড়িঘড়ি পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। যদিও তার আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে আসর গরম করে ফেলে বিরোধীরা। চাপের মুখে শেষে পুলিশ ইনস্পেক্টর সুবোধকুমার সিংহের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সুবোধের স্ত্রী, দুই ছেলে ও বোন এটাহ থেকে আসেন যোগীর লখনৌয়ের বাড়িতে।

গোহত্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যতটা সক্রিয়, পুলিশ অফিসার খুনে তিনি ততটাই নিষ্ক্রিয়, এমন অভিযোগই তুলেছিলেন সুবোধের পরিবার। প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সুবোধ ও যুবক সুমিতকুমার সিংহের হত্যা নিয়েও নীরব ছিলেন তিনি। পরিবর্তে গোহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারই নির্দেশ দেন। সুবোধের ছেলে অভিষেকের কথায়, ‘‘সমাজ এবং বর্তমান প্রজন্মের কাছে আমার অনুরোধ, দয়া করে গোহত্যা ও সাম্প্রদায়িক হিংসায় জড়াবেন না। আমার বাবা সবসময় বলতেন, ধর্মের নামে হিংসা ছড়িও না, আদর্শ নাগরিক হও।’’

দিন কয়েক আগে, গবাদি পশুর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আচমকাই হাঙ্গামা শুরু হয় বুলন্দশহরে। থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিষয় থিতিয়েও গিয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পরে হঠাৎ গ্রামের বাইরে থেকে বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা এসে তাণ্ডব শুরু করে। তাতেই প্রাণ হারান পুলিশ অফিসার সুবোধ কুমার সিংহ। প্রাণ যায় স্থানীয় যুবক সুমিতকুমার সিংহেরও। এই ঘটনায় গোহত্যা এবং হিংসার ঘটনা নিয়ে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়।

গোহত্যার তাণ্ডবের জন্য ইতিমধ্যেই অভিযোগের আঙুল উঠছে বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বিজেপির দিকে। অভিযোগ, তাণ্ডবের পাণ্ডা বজরং দলের যোগেশ রাজ।  তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই গোহত্যার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তল্লাশি চালানো হয় ঘরে ঘরে। বুলন্দশহরের চিঙ্গারওয়াতি থেকে তিন কিমি দূরে নয়াবংশ গ্রামের সাত জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। উঠে আসে ১০ ও ১২ বছরের দুই নাবালকের নামও। তদন্তকারীদের কথায়, যে সাতজন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে তারা প্রত্যেকেই মুসলমান। ঘটনার দিন দুই নাবালক ছাড়া বাকিরা কেউ গ্রামেই ছিলেন না। তদন্তের রিপোর্ট নিয়েও শুরু হয় বিভ্রান্তি। প্রশ্ন ওঠে, তাণ্ডবের মূল পাণ্ডা যোগেশের বযানের ভিত্তিতে কেন তদন্ত শুরু করল পুলিশ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গবাদি পশুদের মেরে আখের খেতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশেরই একাংশ বলছে, গোহত্যার গুজব ছড়াতে এই কথা প্রচার করা হয়। তাহলে কি, বুলন্দশহরে হিংসার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে? উঠছে সেই প্রশ্নও।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.