মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

টিভিটা খারাপ ছিল, তড়িঘড়ি সারিয়ে নিলেন চন্দ্রকান্তর বাবা

  • 20
  •  
  •  
    20
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি : গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে খারাপ হয়ে পড়েছিল বাড়ির টিভিটা। শুক্রবার সকাল সকালই দোকানে গিয়ে মেকানিক ডেকে এনে টিভি সারিয়েছেন মধুসূদন কুমার। গভীর রাতে পর্দায় চোখ রাখতে হবে তো !

রাত ১টা ৫৫ মিনিটে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ ও রোভার ‘প্রজ্ঞান’। গোটা দেশের সঙ্গেই চাঁদ ছোঁয়ার সেই আবেগ আর আনন্দে ভাসার প্রস্তুতি আজ একটু সকাল সকালই শুরু হয়েছে গুড়াপের শিবপুর গ্রামের কুমার বাড়িতে। তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠেছেন অসীমা কুমার। স্নান সেরে পুজো করেছেন। নিজের ছেলের মঙ্গল কামনায়। জোড় হাত করে আশীর্বাদ চেয়েছেন ‘বিক্রমের’ জন্যে। “বিক্রমের সাফল্যের উপরে যে নির্ভর করছে আমার ছেলের সাফল্যও। ওঁর অধ্যবসায়, পরিশ্রমের সার্থকতা। আমি মা হয়ে ঠাকুরের কাছে আর কী চাইতে পারি ?” অকপট অসীমা দেবী।

মধূসূদনবাবু আর অসীমাদেবীর বড় ছেলে চন্দ্রকুমার যে ইসরোর চাঁদের দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সে খবর জেনে গিয়েছে গোটা গ্রাম, গোটা বাংলা। সেই ২২ শে জুলাই, যে দিন অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে পাড়ি দিয়েছে চন্দ্রযান-২, সে দিন থেকে। সে দিন থেকেই চাঁদের সঙ্গে যেন আত্মার যোগ স্থাপিত হয়েছে গোটা গ্রামের। আজ ভালোয় ভালোয় নামুক ‘বিক্রম’, চাইছে শিবপুর গ্রাম। চন্দ্রকান্তকুমার যে স্কুলে পড়াশুনা করেছেন, সেই খাজুরদহ হাইস্কুলেও যেন উৎসব। তাঁকে যারা পড়িয়েছেন সেই শিক্ষক শিক্ষিকারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মাহেন্দ্রক্ষণের। ইসরোতে থাকলেও চন্দ্রকান্তের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান তাঁরা।

প্রতিদিন সকালে উঠে আগে গোয়ালের গরুদের মাঠে রাখতে যান মধুসূদনবাবু। তাদের দেখাশোনাতেই কাটে দিনের শুরুর অনেকটা সময়। আজ তাড়াহুড়ো করে সেরেছেন সে কাজ। বললেন, “বাড়ির টিভিটা সারানো হচ্ছিল না কিছুতেই। কিন্তু আজ তো সারাতেই হবে। না হলে যে ঐতিহাসিক দৃশ্যটাই আর দেখা হবে না। তাই সকাল সকাল কাজ সেরে মেকানিক ডাকতে গেছিলাম। আমার স্ত্রীও আজ ভোর ভোর উঠে স্নান পুজো সেরেছে।”

চন্দ্রযান-২ এর সাত সাতটি অ্যান্টেনা বানিয়েছেন মধুসূদন আর অসীমার বড় ছেলে ইসরোর আধিকারিক চন্দ্রকান্ত কুমার। ইসরোতে ডেপুটি ডিরেক্টর পদে কর্মরত তিনি। ছোট ছেলে শশীকান্তও ইসরোতে কর্মরত। কাকতালীয় ভাবে চাঁদের নামে নাম রেখেছিলেন ছেলের। সেই ছেলের নামই যে এ ভাবে জড়িয়ে যাবে চাঁদের সঙ্গে, কে কবে ভেবেছে?

Comments are closed.