ব্রেক কষে রেল লাইনে উঠে পড়া হাতিকে বাঁচালেন ট্রেন চালক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: ফের ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে রেল লাইনে উঠে পড়া হাতি বাঁচালেন ট্রেন চালক।

মঙ্গলবার সকাল ৬.৪০ নাগাদ মহানন্দা অভয়ারণ্যের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিল (৭৫৭১৫) আপ শিলিগুড়ি-দিনহাটা প্যাসেঞ্জার। গুলমা এবং সেভক স্টেশনের মাঝে আচমকাই ট্রেনের চালক বিপ্লবকান্তি দাস দেখেন, বিশাল এক বুনো হাতি দাঁড়িয়ে রয়েছে রেললাইনের উপর। সঙ্গে সঙ্গে তিনি এবং সহকারী চালক এন কে সিং আপদকালীন ব্রেক ব্যবহার করে ট্রেন থামিয়ে দেন।

 

বিপ্লবকান্তিবাবু বলেন, ‘‘ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে হাতিটি ধীরে ধীরে একেবারে ইঞ্জিনের সামনে চলে আসে। এরপর শুঁড় দিয়ে ইঞ্জিন স্পর্শ করে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। মিনিট দশেক এ ভাবেই দাঁড়িয়ে থাকার পর আবার ধীরে ধীরে পাশের জঙ্গলে ঢুকে যায়।’’

দাঁতালটি নিরাপদ দূরত্বে চলে যেতে ফের ট্রেন চালানো শুরু করেন চালক ।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ডিআরএম  কে এস জৈন বলেন, “ আমরা চালক, সহচালক রেলের গার্ড সহ বিভিন্ন স্তরের রেল কর্মীদের জঙ্গলের পথে ট্রেন চালানো নিয়ে নানান প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এই সব প্রশিক্ষণ শিবিরে বন দফতরের বিশেষজ্ঞরাও থাকেন। এমন প্রশিক্ষণের জন্যই আমরা জঙ্গলের পথে দুর্ঘটনা হাত থেকে বন্য জন্তুদের বাঁচিয়ে ট্রেন চালাতে সক্ষম হচ্ছি।’’

ডুয়ার্সের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া রেল লাইনে হাতির গতিবিধি রেল ও বনদফতরের বরাবরের মাথাব্যথার কারণ। এই নিয়ে এই দুই দফতরের টানাপড়েনও নতুন নয়। আলিপুরদুয়ার থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ১৬০ কিলোমিটার রেলপথে হাতির ৮ টি করিডর রয়েছে। ট্রেনের ধাক্কায় হাতি মৃত্যু ঠেকাতে ২০১২ সালে রাজ্যের বনদফতর ও রেল যৌথ কমিটি গঠন করে।  প্রতি তিনমাস অন্তর বৈঠক করেন এই কমিটির সদস্যরা।

রেল দফতর সুত্রে জানা গেছে, হাতির করিডোর থাকায় জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা থেকে ক্যারন পর্যন্ত ট্রেনের গতিবেগ দিনে রাতে সবসময় ঘন্টায় ৩০ কিলোমিটার ছিল। সেখানে বর্তমানে গতিবেগ বাড়িয়ে ৭০ কিলোমিটার করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে চালসা থেকে নাগরাকাটা, নাগরাকাটা থেকে ক্যারন, ক্যারন থেকে  দলগাঁও, মাদারিহাট থেকে হাসিমারা, হাসিমারা থেকে কালচিনি এবং কালচিনি থেকে রাজাভাতখাওয়া পর্যন্ত বিকেল পাঁচটা থেকে পরের দিন ভোর পাঁচটা পর্যন্ত ট্রেনের গতিবেগ কমিয়ে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার করা হয়েছিল। ওই পথে সেই গতিবেগ বাড়িয়ে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার করা হয়েছে। পাশাপাশিই সতর্কতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে ট্রেনের চালক, সহচালক ও গার্ডদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More