রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

কল্যাণের বিরুদ্ধে পোস্টার দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার পুলিশ আধিকারিক

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি:  এ যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত।

শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার লাগানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হল হুগলি গ্রামীণ পুলিশেরই এক সাব ইন্সপেক্টরকে। তাঁর নাম সমীর সরকার। দুদিন টানা জেরার পর আজ সকালে তাঁকে গ্রেফতার করে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ। সমীরবাবু হুগলি গ্রামীণ পুলিশে ডিআইবিতে ওসি ওয়াচ পদে কর্মরত।

গত ৩১শে জুলাই সকালবেলা রিষড়া ও শ্রীরামপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে অশ্লীল ভাষায় লেখা কিছু পোস্টার দেখতে পান স্থানীয় মানুষজন। লাল কালি দিয়ে হাতে লেখা সেই পোস্টারে কল্যাণবাবুর বিরুদ্ধে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে ৩০ জুলাই গভীর রাতে রিষড়া ও শ্রীরামপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় ওই পোস্টার লাগানো হয়। শ্রীরামপুর থানায় অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ ওই সব এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একটি সাদা বোলেরো গাড়িকে চিহ্নিত করে।

পুলিশ স্টিকার লাগানো গাড়িটি সমীর সরকার ব্যবহার করতেন বলে জানতে পারে পুলিশ। এরপরেই চুঁচুড়া থেকে গাড়ি সমেত চালক অমিয় খামারুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে রিষড়া থেকে গ্রেফতার হয় মহঃ মোস্তাফা নামে আরও একজনকে। পুলিশের দাবি, ধৃত দুজনই স্বীকার করেন, পোস্টার মারার সময় সমীর সরকার গাড়িতে বসে ছিলেন। এরপরেই চন্দননগর পুলিশ কমিশনারটের তদন্তকারীরা সমীরবাবুকে নোটিস দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য  হাজির হতে বলে। কিন্তু তিনি উপস্থিত না হওয়ায় রবিবার তাঁকে আটক করে পুলিশ। এরপর ধৃত দুজনের সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে টানা জেরা করে। তারপরেই আজ গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। আজই আদালতে তোলা হয় সমীরবাবুকে।

তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন সমীরবাবু। কল্যাণবাবুর হয়ে নির্বাচনে প্রাণপাত করে খেটেও তাঁর এই পরিণাম বলেও জানান তিনি।

Comments are closed.