রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

হাবড়ায় ডেঙ্গিতে মৃত্যু মিছিল, সচেতন করতে গান গেয়ে বেড়াচ্ছেন স্বপন বাউল

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : এক সপ্তাহে হাবড়ায় ডেঙ্গির বলি হয়েছেন চার জন। ঘরে ঘরে জ্বরের রোগী। তাই আতঙ্কে কাঁপছে হাবড়া। ডেঙ্গি রুখতে বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার প্রচার চালাচ্ছে প্রশাসন। করা হচ্ছে স্বাস্থ্য শিবির। ব্লিচিং ছড়িয়ে আবর্জনা মুক্ত রাখার চেষ্টা হচ্ছে এলাকা। এ সবই হচ্ছে সরকারি স্তরে। বর্ধমান থেকে প্রতিদিন হাবড়ায় ছুটে আসা স্বপন বাউলের সঙ্গে কিন্তু এ সবের কোনও যোগ নেই। তবুও তিনি ছুটে আসছেন প্রতিদিন। নিজের মতো করে। গান গেয়ে মানুষকে সচেতন করে যদি বাঁচাতে পারেন এই মারণ রোগের থাবা থেকে।

শুক্রবার ডেঙ্গির থাবায় প্রাণ গিয়েছে বিরা প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ধীমানকান্তি মল্লিকের (৪১)। মঙ্গলবার থেকে বারাসতের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন তিনি। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতায় বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানেই শুক্রবার বেলা তিনটে নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর।

শনিবার মৃত্যু হয় হাবড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ডহরথুবা এলাকার বাসিন্দা সুমিত্রা সেনের (৪১)। জ্বরে আক্রান্ত সুমিত্রাদেবীকে  শুক্রবার বিকেলে হাবড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে রেফার করা হয় বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। শনিবার রাতে সেখানেই মারা যান তিনি। ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গির কথা উল্লেখ করা হয়।

হাবড়া চৈতন্য কলেজের ইংরেজি অনার্সের ছাত্রী অঙ্কিতা সিকদার (১৯) বুধবার কলেজ থেকে জ্বর নিয়ে ফেরেন। শুক্রবার রাত থেকে বমি হতে থাকায় শনিবার সকালে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বারাসাত হাসপাতালে। ওই ছাত্রীর পরিবারের দাবি, তাঁর শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ডাক্তার। শনিবার রাত আটাটা নাগাদ মৃত্যু হয় ওই ছাত্রীর।

সোমবারও মৃত্যু হয়েছে হাবড়ার আরও এক গৃহবধূ সবিতা ঘোষের (৩৯)। বারাসত হাসপাতাল থেকে আরজিকর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল তাঁকে। সেখানেই আজ ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্বপন বাউলের কথায়, এই মৃত্যু মিছিল সামলানোর কোনও ক্ষমতাই নেই তাঁর। তবু মানুষ যাতে সচেতন হয় তার জন্যই চেষ্টা করছেন তিনি। প্রতিদিন সকালে উঠে ট্রেনে–বাসে কোনও রকমে চলে আসছেন হাবড়ায়। পাড়ায় পাড়ায়, হাসপাতাল চত্বরে গান গেয়ে বেড়াচ্ছেন। বিনা পারিশ্রমিকে। বললেন, “তথ্য সংস্কৃতি দফতর থেকে ভাতা পাই। মাসে হাজার টাকা করে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ডাক পেলে গান গাই। তাতেই চলে যায় সংসার।” হাবড়ায় ডেঙ্গির প্রকোপ খবরের কাগজে পড়ছেন, টিভিতে শুনছেন। তাই ছুটে আসা।

হাবড়ার পথে পথে তাই এই বাউল এখন একরকম পরিচিত মুখ।

Comments are closed.