দিদিকে বলো: নেত্রীর নির্দেশে এসেছি, তবে ভাত জোগাড় করতে পারবো না , সাফ জানালেন মালদার বিধায়ক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    বিবেক সিংহ, মালদা: দিদি তো মন খুলে কথা বলার অধিকার দিয়েছেন আমজনতাকে। কিন্তু সেই ধাক্কায় এখন বেমক্কা মেজাজ হারাচ্ছেন তাঁরই লেফট্যান্টরা।

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জনসংযোগ যাত্রায় বেরিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে যেমনটি করে ফেললেন ইংরেজবাজারের তৃণমূল বিধায়ক নীহার ঘোষ। ভরা হাটে সোজা বলে দিলেন, “গরিব মানুষের ভাত জোগাড় করে দেওয়ার দায়িত্ব আমার নয়। আপনাদের কী অসুবিধা হচ্ছে বলুন, সরকারকে জানিয়ে দেব।”

    রবিবার ছুটির দিন। সে দিনই ইংরেজবাজার ব্লকের বিনোদপুর গ্রামে জনসংযোগ যাত্রায় গিয়েছিলেন নীহারবাবু। গ্রাম ঘুরে মানুষের সমস্যার কথা শুনতে চাইতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আবহাওয়া। বিধায়ককে ঘিরে শুরু হয় বাসিন্দাদের প্রবল বিক্ষোভ। ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির ফোন নম্বর দেওয়া কার্ড বিলির ফাঁকে গ্রামবাসীদের এমন বিক্ষোভের মুখে পড়ে মেজাজ হারান বিধায়কও। ভাতা নিয়ে স্থানীয় মানুষদের কিছু অভাব অভিযোগের উত্তরে বলতে থাকেন, “ভাতার বিষয়টি দেখে মোদী সরকার। আমার কিছু করার নেই । আমি শুধু এসেছি দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে জনসংযোগ বাড়াতে। গরিব মানুষের ভাত জোগাড় করে দেওয়ার দায়িত্ব আমার নয়।  তবে হ্যাঁ, আপনাদের কী অসুবিধা হচ্ছে সেটা বলুন, মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবো।”

    বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ,  ভোট আসে, ভোট যায়। কিন্তু অসহায় গ্রামবাসীদের দেখার কেউ নাই। এলাকার বেহাল রাস্তাঘাট। ভেঙে পড়ছে গরিব মানুষদের কাঁচা বাড়ি। মিলছে না বার্ধক্যভাতা, বিধবা ভাতা। ১০০ দিনের কাজ নেই। তাঁরা বলেন,  “এ সব নিয়েই বিধায়ককে জানাতে গিয়েছিলাম। অথচ উনি বলছেন, মানুষের ভাত জোগাড় করে দেওয়ার দায়িত্ব ওঁর নয়। উনি শুধু অসুবিধার কথা শুনবেন আর সরকারকে জানাবেন।”

    বিধায়কের কথায় উত্তেজিত হয়ে ওঠেন গ্রামবাসীরা। বিধায়ক নীহার ঘোষ অবশ্য বলেন, “যা সত্যি তাই বলেছি। মুখ্যমন্ত্রীর কথা মতো জনসংযোগ যাত্রায় এসেছি। মানুষের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাতে ফোন করতে বলেছি। এর বেশি আমি কী বলব?”

    বিধায়কের এমন কথার সমালোচনায় মুখর হয়েছে জেলা বিজেপি। বিজেপির জেলা সভাপতি গোবিন্দ মণ্ডল বলেন, “তৃণমূলের নেতা নেত্রী সকলেই এখন মেজাজ হারাচ্ছেন। ভোট নিতে যাওয়ার সময়তো মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারপরে কিছু হয়নি। এখন দিদির গুঁতো খেয়ে রাস্তায় নেমে এ সব কথা শুনছেন আর খেপে যাচ্ছেন। পারবেন না মানে? উনি কি তাহলে সরকারের বাইরে অন্য দলের বিধায়ক?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More