মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

জলদাপাড়ায় গন্ডার খুনের তদন্তে সিআইডি, চালু হচ্ছে বিশেষ নজরদারি

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে গন্ডার খুনের তদন্ত শুরু করল সিআইডি। রবিবারই সিআইডির তিন সদস্যের একটি দল জলদাপাড়ায় যায়। ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর এক প্রতিনিধিও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে আসেন। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতেই সিআইডি এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

বন্যপ্রাণ বিভাগের রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা বলেন, “আমরা সকলে মিলেই এই ঘটনার তদন্ত করছি। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ সিআইডিকে তদন্তের জন্য বলেছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। একই সঙ্গে পুলিশ ও ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোও এই ঘটনার তদন্ত করছে।”

গত বুধবার বিকেলে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের উত্তর রেঞ্জের ফিফটি ফিট বিট এলাকার ৪ নম্বর কম্পার্টমেন্টে একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী গন্ডারকে গুলি করে মারে চোরাশিকারিরা। পরের দিন মৃত গন্ডারের দেহ উদ্ধার করে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ। গন্ডারের দেহ থেকে দু’টি বুলেট পায় বন দফতর। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে স্থানীয় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা বন্যপ্রাণ হত্যা ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশের দাবি। এদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে বনদফতর।

জলদাপাড়ায় গন্ডার খুনের পরে এই জঙ্গলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে বনদফতর। তিনশোরও বেশি গন্ডার রয়েছে এই জাতীয় উদ্যানে। নিরাপত্তার বিষয়টি যে তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা স্বীকার করছে বিভিন্ন মহল। ২০১৪-২০১৫ সালে এক বছরে এই বনাঞ্চলে মোট ৫ টি গন্ডার খুন করে চোরাশিকারিরা। তবে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে সব থেকে বেশি গণ্ডার শিকার হয়েছে ১৯৬৮ থেকে ১৯৭২ সনের মধ্যে। এই পাঁচ বছরে এই বনাঞ্চলে অন্তত ৭০ টি গন্ডারকে গুলি করে মারে চোরাশিকারিরা। বর্তমানে গন্ডার শিকারের ঘটনা কমলেও ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির পর ফের গন্ডার শিকারের ঘটনা ঘটল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে। আর সেই কারণেই এই বনাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ভাবনা ভাবছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ। এই বনাঞ্চলের নিরাপত্তায় ইলেকট্রনিক আই সারভিল্যান্স সিস্টেমের কথা ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা।

কী এই ইলেকট্রনিক আই সারভিল্যান্স সিস্টেম?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জঙ্গলে ৪০ থেকে ৫০ মিটার উচ্চতায় থার্মাল ও অপটিক্যাল দু’ধরনের ক্যামেরাই বসানো থাকে। সেই ক্যামেরাতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি রাখা হয়। রাতের জন্যই থার্মাল ক্যামেরা বসানো থাকে। ৪০ থেকে ৫০ মিটার উপরে বসানো ক্যামেরায় যত দূর দেখা যায় ততটা নজরদারি চালানো যায়। দেশের জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক সহ বেশ কয়েকটি বনাঞ্চলে এই ব্যবস্থা সম্প্রতি চালু করা হয়েছে। সেই একই ব্যবস্থা জলদাপাড়া ন্যাশনাল পার্কেও চালুর কথা ভাবছে বনদফতর। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও কুমার বিমল বলেন, “এখন সব বনাঞ্চলেই বনকর্মীর অভাব রয়েছে। ফলে আমাদের বৈদ্যুতিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। ইলেকট্রনিক আই সারভিলেন্স সিস্টেম চালু হলে দিনে রাতে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো হবে।”

Comments are closed.