উৎসবের আলো নেই, নতুন জামার গন্ধ নেই, তবুও শৈশবের দাবিতে দুর্গা আসে নতুনগ্রামে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান : পুজোর ক’দিন উৎসবের আলো জ্বলে না এখানে। বাঙালির প্রাণের উৎসবের সামান্যতম ছোঁয়াও লাগে না। কারণ দুর্গাপুজো হয় না ভাতারের নতুনগ্রামে। কেন হয় না জানেন না কেউই। গ্রামে প্রাচীন যাঁরা, তাঁরা বলেন, ‘‘রীতি মেনেই এ গ্রামে চণ্ডীর পুজো হয় না। হয় না দুর্গাপুজোও।’’ তাই কচিকাঁচারা নিজেরা মাটি দিয়ে দুর্গামূর্তি তৈরি করে। আর এই মূর্তির সামনে বসেই কেটে যায় তাদের ষষ্টী থেকে দশমী। বোধন আর বিসর্জনের ঢাক না বাজলেও নিজেদের মতো করে আনন্দ খুঁজে নেয় প্রতিবার।

ভাতারের বনপাশ পঞ্চায়েতের নতুনগ্রাম গঙ্গাবাজার এলাকা। ৭৬ বছরের প্রবীণ বাসিন্দা গোপাল ঘোষ জানান, তাঁদের বাপ ঠাকুরদার আমল থেকেই গ্রামে চণ্ডী পাঠ হয় না । গ্রামে কোনও দুর্গা মন্দির নেই । দুর্গা পুজোর প্রতিমাও আসে না তাঁদের গ্রামে।

প্রবীণা শক্তিবালা ঘোষ বলেন, ‘‘৫০ বছর আগে বিয়ে হয়ে এই গ্রামে বউ হয়ে এসেছি। কখনও দুর্গাপুজো হতে দেখিনি। আগামী ক’টা দিন সারা বাংলার মানুষ দুর্গোৎসবে মাতোয়ারা হবে। আমাদের গ্রামে অন্ধকার।’’

অনেকেই জানালেন, পাশের গ্রামে গিয়ে দুর্গা ঠাকুর দেখেন তাঁরা । গ্রামের নতুন বউরা পুজোর সময়ে বাবার বাড়ি চলে যান । আবার কেউ শহর বর্ধমানে যান দুর্গা দর্শনে। গ্রামের নববধূ রেখা ঘোষ, টুম্পা ঘোষরা বলেন, ‘‘শ্বশুরবাড়ির গ্রামে দুর্গা পুজো নেই। ভাল লাগে ? বলুন।’’

উৎসবের আলো নেই, নতুন জামার গন্ধ নেই, ভোজের আনন্দ নেই।

ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাই নিজেরাই কাদা মাটি দিয়ে ছোট্ট দুগ্গা প্রতিমা গড়ে নিজেদের মতো আনন্দ করে । এবছরও  শৈশবেই আটকে থাকবে নতুন গ্রামের দুর্গাপুজো।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More