সোমবার, অক্টোবর ১৪

শিউলি ফুলের গন্ধ মেখে শরৎ এল না এ বার, গাঢ় হচ্ছে চিন্তার মেঘ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শরৎ তো এসে গেছে কবেই ! ঘাসের আগায় শিশিরের রেখা দূরের কথা, শিউলির গন্ধও যে মিলল না।

নগরজীবনে কি হারিয়েই গেল কমলা আর সাদায় মেশামেশি সেই রোমান্টিকতা? এ প্রশ্ন ঘুরছে অনেকেরই মনে। তারই উত্তর খুঁজতে নামল জলপাইগুড়ির সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাব।

দ্রুত নগরায়নের দাপটে রূপ ও লাবন্য অনেকটাই হারাতে বসেছে শিউলি ফুল। আজ থেকে প্রায় বছর দশেক আগে জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সমীক্ষায় উঠে আসা এই তথ্য রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল। এ বারের সমীক্ষায় দেখা গেছে, জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া গ্রামীণ এলাকায় যাও বা দেখা যাচ্ছে, শহরে কিন্তু একেবারে দেখা মিলছে না শিউলি ফুলের। জলপাইগুড়ি সায়েন্স এন্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক ডক্টর রাজা রাউত ও ডাক্তার গৌতম ঘোষ প্রায় ৫০ টি বাড়িতে শিউলি ফুল নিয়ে সমীক্ষা চালান।

ডক্টর রাউত বলেন, ‘‘নগরায়নের দাপটে উষ্ণতা বেড়ে শিউলি ফুল তার রূপ ও লাবন্য আগেই হারিয়েছে। এ বার দেখাও মিলছে না। পরিবেশের জন্য এটা কি‌‌ন্তু অশনি সংকেত।’’ জলপাইগুড়ির প্রসঙ্গ টেনেই তিনি বলেন, ‘’১৫ বছর আগেও সেপ্টেম্বর মাসের শেষে যেখানে জলপাইগুড়িতে তাপমাত্রা থাকত দিনে ২২ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি, এখন তা গড়ে প্রায় ৩৪ ডিগ্রি। বেলার দিকে যা ৩৭ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে শিউলি ফুল।’’

পাতকাটা এলাকার বাসিন্দা রঞ্জিত সরকার বলেন, ‘‘কাশের বন আর শিউলির গন্ধে বোঝা যায় শরৎ এল। এ বার পুজো এসে গেল, কিন্তু আমাদের বাড়ির গাছটায় একটাও শিউলি ফুটল না।’’

ভূগোলের শিক্ষক জাতিস্মর ভারতী বলেন, ‘‘শিউলি ফুল সাধারণত ভোরে ফোটে। কারণ ফুল ফুটতে ঠান্ডা আবহাওয়া প্রয়োজন। ২০ ডিগ্রি এর মধ্যে তাপমাত্রা থাকলে তখন হিম পড়ে। হিমের সঙ্গে টুপটাপ ঝরে পড়ে শিউলি ফুল। এ বার তো দিনে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি রাতে ২৭ ডিগ্রি মতো তাপমাত্রা থাকছে। ফুল আসবে কি ভাবে ? আমরা ইতিমধ্যেই প্রকৃতির অনেকটা ক্ষতি করে ফেলেছি। এটাই যদি চলতে থাকে তবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এমন আরও পরিবর্তন আরও হবে।’’

Comments are closed.