মালিককেই টোটো চালাতে হবে, ভাড়া খাটালে চলবে না, বর্ধমানে নয়া সিদ্ধান্ত

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান : টোটো বা ই রিকশার মালিক যিনি, চালাতে হবে তাঁকেই। রাজ শহরে টোটোর দৌরাত্ম্য কমাতে এমনই সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রশাসন।

টোটোর জটে হাঁসফাঁস গোটা শহর। তাই বেপরোয়া টোটোযানে রাশ টানতে এক গুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রশাসন। জানিয়ে দিল, টোটো বা ই-রিকশা যাঁর, চালাতে হবে তাঁকেই। ই-রিকশা কিনে অন্যকে চালাতে দেওয়া যাবে না। এছাড়াও  ই-রিকশা চালাতে হবে নির্দিষ্ট রুটে। পঞ্চায়েত ও পুর এলাকার ই-রিকশায় থাকবে আলাদা লোগো। যার মাধ্যমে চিহ্নিত করা যাবে কোন এলাকার জন্য অনুমোদন পেয়েছে সেটি। ই-রিকশার রেজিস্ট্রেশনের পাশাপাশি, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও বাধ্যতামূলক করা হল।

বর্ধমান শহর সহ গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলায় ই-রিকশা নিয়ে তৈরি হওয়া নানা সমস্যা মেটাতে জেলাশাসক বিজয় ভারতী, ও পুলিশসুপার ভাস্কর মুখার্জী বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে ছিলেন জেলার তিনটি ই-রিকশা সংগঠনের প্রতিনিধিরাও। সেখানেই এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্ধমান শহর তো বটেই শহর সংলগ্ন ও কালনা-কাটোয়ার মত শহরেও ই-রিকশার দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমবে বলে আশা জেলা প্রশাসনের। এরফলে যানজট সমস্যার থেকেও মানুষ মুক্তি পাবে বলে প্রশাসনের ধারণা। নতুন বছরের গোড়া থেকেই এই নয়া ব্যবস্থা লাগু করতে চাইছে প্রশাসন।

জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানান, বর্ধমান শহরে প্রায় ১৫ হাজার ই-রিকশা ও টোটো চলাচল করে। শহর সংলগ্ন পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৮০০ এবং কালনা-কাটোয়ায় আরও প্রায় সাড়ে সাতশো ব্যাটারিচালিত এই যান চলাচল করে। তিনি বলেন, “সব টোটোকে ই-রিকশায় রূপান্তরিত করতে হবে। ই-রিকশার রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। চালকদের সবার ড্রাইভিং লাইসেন্স করাতে হবে। এক মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২০ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।”

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ই-রিকশার জন্য নির্দিষ্ট রুট ভাগ করে দেওয়া হবে। শহরের, পঞ্চায়েত এলাকার এবং মিশ্র এলাকায় ই-রিকশা রুট থাকবে। শহরের ই-রিকশায় নির্দিষ্ট রঙের ত্রিকোণ চিহ্ন বা লোগো দেওয়া থাকবে, পঞ্চায়েত এলাকার ই-রিকশায় আলাদা রঙের গোলাকার চিহ্ন থাকবে। যার মাধ্যমে বোঝা যাবে কোন এলাকার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেটিকে। পাশাপাশি, ই-রিকশার নম্বর, রুটও লেখা থাকবে ই-রিকশার উইণ্ডস্ক্রিনে। জেলাশাসক জানান, এই এক মাসের মধ্যে পরিবহণ দফতর, পঞ্চায়েত ও পুরসভা মিলে ঠিক করবে কোন এলাকায় কত ই-রিক্সা প্রয়োজন এবং কতগুলিকে অনুমতি দেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও জানান, এখন বেআইনিভাবে বা অনুমতি ছাড়াই যেসব টোটো বা ই-রিকশা চলছে সেগুলিকে বাতিল করা হবে না। তাঁদের প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে প্রশাসন।

পুলিশসুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, “যিনি ই-রিকশার মালিক তাঁকেই তা চালাতে হবে। একজনের ই-রিকশা অন্যজন চালাতে পারবেন না। বর্ধমান শহরের বিভিন্ন জায়গায় টোটো চলাচলের ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।” পুলিশ সুপার জানান, পদ্ধতি মেনে রুট ঠিক করা হবে। এছাড়া যত্রতত্র ই-রিকশা দাঁড় করানো যাবে না। শহরে কয়েকটি জায়গা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। সেই সব জায়গাতেই শুধুমাত্র ই-রিকশা দাঁড়াতে পারবে। শহরের খোশবাগান, বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তা-সহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

গত একদশকে শহর বর্ধমান পরিধিতে বা আয়তনে যতটা না বেড়েছে, তার দ্বিগুণ বেড়েছে জনসংখ্যা। তাই জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন জেলার মানুষ। তবে একইসঙ্গে তা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েও দোলাচলে রয়েছেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More