সোমবার, অক্টোবর ১৪

খিচুড়ি-বেগুনি, মাংস-ভাতে জমে উঠবে বন্দিদের পুজোও

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম : স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়। বিচারের পরে ঠাঁই হয়েছিল সিউড়ি সংশোধনাগারে। বন্দি অবস্থাতেই কয়েকজন সহযোদ্ধাকে নিয়ে শুরু করেছিলেন দুর্গা পুজো। সিউড়ি সংশোধনাগারে সেই দুর্গাপুজোর সূচনা। এরপর দেশ স্বাধীন হয়েছে। যাঁরা জীবিত ছিলেন, মুক্তি পেয়েছেন সেই স্বাধীনতা সংগ্রামীরা।  তবে সংশোধনাগারের পুজো কিন্তু বন্ধ হয়নি।

এখনও শরৎ এলেই আগমনীর সুর ওঠে সংশোধনাগারের ভিতরে। শুরু হয় মাতৃ আরাধনার তোড়জোড়। আসে প্রতিমা। তৈরি হয় মণ্ডপ। জ্বলে ওঠে আলো। এ বছরও ব্যতিক্রম হয়নি তার। এই মুহূর্তে সাড়ে ছ’শো বন্দি রয়েছেন এখানে। এঁদের মধ্যে ৬১০ জন পুরুষ। ৪০ জন মহিলা। বন্দিদের মধ্যে ১০৮ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। সমাজ সংসারে ব্রাত্য হলেও পুজোর আঙিনায় কিন্তু সবার অংশগ্রহণ সমান সাবলীল। এক সাজাপ্রাপ্ত বন্দি মাতৃ আরাধনার পুরোহিত।

সিউড়ি সংশোধনাগারের জেলার আব্দুল্লাহ কামাল বলেন, ‘‘পুজোর ক’দিন এখানকার আবাসিকদের আনন্দ বাইরের থেকে কোনও অংশে কম হয় না। সবাই সমানভাবে অংশ নেয় পুজোয়। হইহুল্লোড়, খাবার, আড্ডা, গান সব মিলিয়ে রীতিমতো জমজমাট এখানকার পুজো।’’

এ বার সপ্তমীর মেনু, সকালের টিফিনে বোঁদে আর মুড়ি। দুপুরে চিলি চিকেন ফ্রাইড রাইস আর রাতে ডিম-ভাত। অষ্টমীর দিন সকালে লুচি এবং কুমড়োর তরকারি দুপুরের গোবিন্দ ভোগ চালের খিচুড়ি, বেগুনি, মিক্স ভেজ আর পায়েস। নবমীর দিন দুপুরে খাওয়ানো হবে ভাত, সবজি আর খাসির মাংস। দশমীর দিন দুপুরে ভাত, মাছ, সবজি, পাপড় আর মিষ্টি দইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বন্দিদের জন্য।

প্রত্যেক বন্দিকে পুজো উপলক্ষে দেওয়া হয়েছে নতুন পোশাক। শুধু খাবার আর পোশাকই নয়, সন্ধ্যে হলেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বন্দিরা। থাকবে নানা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতে নেওয়ার সুযোগ। কাছের মানুষদের হয়তো পাশে পাবেন না, তবে জেলের চার দেওয়ালের ভিতর নিজেদের মতো করে পুজোর আনন্দ তাঁরা যাতে ভাগ করে নিতে পারেন সেই ব্যবস্থায় ফাঁক রাখা হয়নি কোনও।

 

 

Comments are closed.