রবিবার, আগস্ট ২৫

সরকারি দফতরের কাছেই বকেয়া কোটি টাকার পুরকর, দিদির দ্বারস্থ কাটোয়া পুরসভা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: নিয়ম মাফিক চলছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর। তবে পুরকর না দিয়েই। অভিযোগ, এই সমস্ত দফতরের কাছে কাটোয়া পুরসভার বকেয়া করের পরিমাণ প্রায় এক কোটি ছুঁই ছুঁই। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে অনাদায়ী পুরকরের পরিমাণ ৯৭ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮১ টাকা। যা আদায় করতে নাজেহাল পুরসভা এ বার চিঠি পাঠাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে। বকেয়া টাকা আদায়ে আইনগত ভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় চাওয়া হচ্ছে সেই পরামর্শও।

পুরসভার দাবি, রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা পূর্ত বিভাগ, জনস্বাস্থ্য ও কারিগরী বিভাগ, খাদ্য নিয়ামক দফতর, স্বাস্থ্য দফতর, মহকুমা পুলিশ বিভাগের পুরকর বাকি রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। এই তালিকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা রেল দফতরের আবাসন, পোস্ট অফিস ও টেলিফোন বিভাগও। পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ সালের পরবর্তী সময় থেকেই আর পুরকর জমা পড়েনি। সর্বোচ্চ পুরকর বাকি রয়েছে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের। যার পরিমান ১৪ লক্ষ টাকার বেশি। এই অনাদায়ী পুরকর আদায়ের জন্য বারবার দফতরগুলিকে চিঠি দেওয়া হলেও আদতে কোনও লাভ হয়নি।

আইন অনুযায়ী জনগণ পুরকর পরিশোধ না করলে পুরসভা সম্পত্তি ক্রোক করে পুরকর আদায় করতে পারে। কিন্তু দফতরগুলি যেহেতু সরকারি, কাজেই এ পথে হাঁটা সম্ভব হচ্ছে না পুরসভার। তাই পশ্চিমবঙ্গের পুরসভা আইন অনুযায়ী বকেয়া পুরকর পরিশোধের কী উপায় তার পরামর্শ চেয়ে রাজ্য সরকারকেই চিঠি পাঠালো কাটোয়া পুরসভা।

পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি বলেন, “দীর্ঘ দিন ধরেই পুরকর অনাদায়ী দফতরের পক্ষে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের এই দফতরগুলিকে কর পরিশোধের চিঠি পাঠানো হয়েছে। কারণ টাকার সমস্যায় ভুগছে পুরসভা। উল্লেখিত দফতরগুলির আধিকারিকরা কর বাকি রয়েছে বলে স্বীকার করে নিলেও তা পরিশোধের কোনও উদ্যোগ নেননি। তাই বাধ্য হয়েই এ ব্যাপারেও দিদির দ্বারস্থ তৃণমূল পরিচালিত কাটোয়া পুরসভা।

Comments are closed.