শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

কলা নিয়ে রোজ ‘ক্যাঁচাল’, এসডিওর কাছে দরবার হয়রান কর্মীদের

কৌশিক দত্ত, বর্ধমান : গোল বাধল কলা নিয়ে। শিশু ও মায়েদের খাবারের তালিকা থেকে কলা বাদ দেওয়ার আবেদন নিয়ে মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা।

সরকারি নিয়মানুযায়ী, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে মা ও শিশুদের যে খাবার দেওয়া হয়, তাতে অন্য আর যা কিছুই থাকুক, ডিম ও কলা থাকবেই। মা ও শিশুদের পুষ্টির কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই কলা নিয়েই এখন নাজেহাল অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। তাঁদের কথায়, আগের দিন এনে রাখা কলা পরের দিন যখন ছোটদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তখন অনেক সময়েই দেখা যায় পচে গেছে তা। আবার উল্টো সমস্যাও রয়েছে। একটু শক্ত দেখে কলা আনলেও বিপদ। ছোটরা তা না খেয়ে ফেলে দিলে অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ির কর্মীদেরই।

চাহিদা মতো খাওয়ার উপযুক্ত কলা সরবরাহ করতে তাই রীতিমতো নাজেহাল কর্মীরা। সে কারণেই কলার পরিবর্তে অন্য কোনও পুষ্টিকর খাদ্য শিশুদের খাবারের তালিকায় রাখা হোক, এমন দাবি তুলেছেন তাঁরা। আর এই দাবি নিয়েই শনিবার কাটোয়ার মহকুমা শাসক সৌমেন পালের কাছে গিয়েছিলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী অচনা সামন্ত, ববি রায়, সাবিত্রী পালরা। তাঁকে স্মারকলিপিও দেন তাঁরা।

কাটোয়া মহকুমায় পাঁচটি ব্লকের এক হাজারের বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে কর্মরত আনুমানিক দুশোর বেশি কর্মী। সরকারি নিয়ম মাফিক অঙ্গনওয়াড়ি স্কুলে কলা ও ডিম খাবারের তালিকায় রাখতেই হবে। অর্চনাদেবীরা বলেন, “কলা নিয়ে নিত্যদিনের ক্যাঁচাল। কলা যদি পচে যায় তবে কটূ কথা শুনতে হয় শিশুদের অভিভাবকদের কাছে। আবার শক্ত থাকলেও ছেড়ে কথা বলেন না কেউ। অনেক সময় পরিস্থিতির চাপে কোনও কোনও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহৃদয় কর্মীরা নিজেদের টাকা খরচ করে খাওয়ার উপযুক্ত কলা শিশুদের কিনে দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু সেই টাকা পারিশ্রমিকের সঙ্গে আর পান না অঙ্গনওয়ারী কর্মীরা।” তাই খাদ্য তালিকা থেকেই কলা বাদ দিয়ে দেওয়ার দাবি তাঁদের।

সব শুনে কাটোয়ার মহকুমা শাসক সৌমেনবাবু বলেন, “আগামী সোমবার আমি নিজে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিদর্শনে যাব। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হবে।”

 

Comments are closed.