সমস্ত গয়না খুইয়ে ঘরে ফিরলেন ট্রেন থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বধূ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: খোঁজ মিলল ব্রক্ষ্মপুত্র মেল থেকে উধাও হয়ে যাওয়া বধূর। মঙ্গলবার রাতে ফারাক্কা স্টেশনে এসে তাঁর স্বামী তাকে বাড়ি নিয়ে যান।

    নীলিমা বর্মন নামে ওই বধূ দাবি করেন, জ্ঞান ফিরে আসার পর বুঝতে পারেন একটি পরিত্যক্ত ঘরে রয়েছেন। তার গায়ে যে সোনার গয়না ছিল কিছুই নেই। তিনি বলেন, “রাস্তায় বেরিয়ে লোককে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে আমাকে। আসলে ট্রেনের শৌচাগারে গিয়ে জ্ঞান হারিয়েছিলাম। তারপর কী হয়েছিল আর মনে নেই। রাস্তার লোকেদের জিজ্ঞাসা করে শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছাই। সেখানে একজনের মোবাইল ফোন থেকে আমার স্বামীকে ফোন করি।”

    এই ফোন পেয়েই তাঁর স্বামী রাজু রায়বর্মন মালদা জিআরপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপর শিয়ালদহ থেকে পুলিশই নীলিমাদেবীকে ফারাক্কা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। সেখানে এসে রাজুবাবু নিয়ে যান স্ত্রীকে। দুদিনের উদ্বেগের পর অবশেষে স্বস্তি ফেরে রায়বর্মন পরিবারে।

    রবিবার রাত ৮টা নাগাদ ধূপগুড়ি স্টেশন থেকে রাজু রায় বর্মন তাঁর স্ত্রী নীলিমা রায় বর্মণ, শ্যালক বিশ্বজিৎ রায় ও পাঁচ বছরের ছেলে মায়াঙ্ক রায় বর্মনকে নিয়ে দিল্লীগামী ব্রহ্মপুত্র মেলে ওঠেন দিল্লী যাওয়ার জন্য। সোমবার ভোরে বারারোয়া স্টেশন পার হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান বছর তিরিশের ওই মহিলা। ট্রেনের মধ্যে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন মহিলার স্বামী। না পেয়ে জামালপুর স্টেশনে নেমে পড়েন। সেখানে রেল পুলিশের কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ। এরপর ফিরে যান মালদা টাউন স্টেশনে। রাতে মালদা টাউন স্টেশনের জিআরপি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

    কোচবিহার জেলার দিনহাটা ব্লকের ঝুড়িপাড়ার বাসিন্দা তাঁরা। কর্মসূত্রে থাকেন হরিয়ানার বাহাদুরগড়ে। সেখানে যাওয়ার জন্যই ট্রেনে উঠেছিলেন। রাজুবাবু জানান, সোমবার ভোরে ট্রেনটি বারারোয়া স্টেশন ছাড়ার পর তাঁর স্ত্রী শৌচাগারে গিয়েছিলেন। তারপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর মোবাইল ফোন হাত ব্যাগে রাখা ছিল। তাই ফোনেও আর যোগাযোগ করতে পারেননি স্ত্রীর সঙ্গে। খোঁজাখুঁজির পরে ট্রেনের টিটি ও পুলিশকে বিষয়টি জানান তিনি। তারপর জামালপুর স্টেশনে নেমে পড়েন। সেখানে রেল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু সাহায্য না পেয়ে ফিরে আসেন মালদা টাউন স্টেশনে। শেষপর্যন্ত সোমবার গভীর রাতে মালদা জিআরপি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

    তাঁর স্ত্রীর হাতে কানে গলায় সোনার অলঙ্কার ছিল জানিয়ে রাজুবাবু অভিযোগ করেছিলেন, গয়নার লোভেই ট্রেন থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাঁর স্ত্রীকে। এ দিনও তিনি বলেন, “আমার স্ত্রীকে অচৈতন্য করে গা থেকে সমস্ত গয়না হাতিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। তবে প্রাণে মারেনি, এটাই আমাদের গোটা পরিবারের ভাগ্য। পুলিশ পুরো বিষয়টি দেখছে।”

    আপনজনকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি পেলেও ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নীলিমার পরিবার।

     

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More