জলদাপাড়ায় গন্ডার খুনে বনদফতরের নজরে অরুণাচলের শার্প শ্যুটার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: ফের কি জলদাপাড়ার জঙ্গলে ঘাঁটি গেড়েছিল অরুণাচল প্রদেশের শ্যুটার? বুধবার রাতে জলদাপাড়ার জঙ্গলে গুলি করে গন্ডার মারার ঘটনার ময়নাতদন্ত করার পর এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে রাজ্যের বন দফতরের কর্তাদের মাথায়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাতেই একজনকে গ্রেফতার করেছে বন দফতর। ধৃত ব্যক্তির নাম শ্যামল সুব্বা। সে ফালাকাটার উমাচরণপুরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে বন দফতর।

    জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের আধিকারিকরা একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানালেও, এই ঘটনায় আরও দু’জনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের বন্যপ্রাণ বিভাগের প্রধান মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা। তিনি বলেন, “আমরা এই ঘটনায় দু’জনকে জুডিশিয়াল কাস্টডিতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছি। তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। এই ঘটনায় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের কোনও গাফিলতি নেই বলেই আমার মনে হচ্ছে। কারণ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি জেনে গিয়েছিলেন জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ। গরুমারায় যেরকম এক মাস পর গন্ডারের মৃতদেহের হদিশ পাওয়া গিয়েছিল, এই ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি।”

    জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের কর্তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রশিক্ষিত চোরাশিকারিরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বন দফতরের বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা গিয়েছে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটের সময় জলদাপাড়ার জাতীয় উদ্যানের হাওড়া ওয়াচ টাওয়ার থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান বনকর্মীরা। পৌনে পাঁচটা নাগাদ ফের গুলির শব্দ শুনতে পান বনকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে হাতি নিয়ে তল্লাশি শুরু করে বনদফতরের কর্মীরা। কিন্তু অন্ধকার নেমে আসায় বেঁকে বসে কুনকি হাতিরা। বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিতে হয় তল্লাশি অভিযান।

    বৃহস্পতিবার ভোরে ফের তল্লাশি শুরু হতেই উত্তর রেঞ্জের ‘ফিফটি ফিট’ বিটের চার নম্বর কম্পার্টমেন্টে মৃত গন্ডারের হদিশ পাওয়া যায়। খড়্গ কাটা ছিল তার। ময়নাতদন্তের পর গন্ডারের দেহ থেকে রাইফেলের দু’টি গুলি পাওয়া গেছে। জানা গিয়েছে, দু’টি গুলিই করা হয়েছিল আট থেকে দশ ফুট দূরত্বের মধ্যে থেকে। একে বন দফতরের কর্তারা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক থেকে গুলি চালানোই বলছেন। শুধু তাই নয়, গুলি চালানোর ধরন এবং গোটা পরিস্থিতি দেখে বনকর্তারা এটা নিশ্চিত যে উত্তরপূর্ব ভারতের প্রশিক্ষিত শ্যুটাররাই গুলি করে গন্ডারটিকে মেরেছে। একটি গুলি গন্ডারটির কপালে এবং আর একটি কানের পাশে লেগেছে বলে জানা গিয়েছে।

    জলদাপাড়া বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও কুমার বিমল বলেন, ‘‘গুলি চালানোর ধরন, দুরত্ব থেকে এটা নিশ্চিত যে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রশিক্ষিত অতি সাহসী চোরাশিকারিরাই এটা করতে পারে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ এরপরেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি অরুণাচলের সার্প শ্যুটারদের নজর এ বার জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে?

    ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে একটি গন্ডার চোরাশিকারির গুলিতে মারা গিয়েছিল। সেবারও খড়্গ নিয়ে উধাও হয়েছিল দুষ্কৃতীরা। এরপরেই অরুণাচল প্রদেশের পশ্চিম সিয়াং জেলার বাসিন্দা মার্তো রিবাকে গ্রেফতার করেছিল বনদফতর। গরুমারাতেও গন্ডার শিকারের পরে নাম উঠে এসেছিল অরুণাচলের চোরাশিকারীদের। জলদাপাড়াতেও গুলি করে গন্ডার খুনের ঘটনায় তাই স্বাভাবিকভাবেই অরুণাচলপ্রদেশের শার্প শ্যুটারদের নামই উঠে আসছে। গুলির ধরন দেখে জঙ্গি যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে জলদাপাড়া ও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের মোট তিনটি স্নিফার ডগ নিয়ে জঙ্গলে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে বন দফতর।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More