বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

ডাক্তার দেখাতে এসে শ্লীলতাহানির শিকার গর্ভবতী মহিলা, কী কাণ্ড মালদায় !

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা : স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসার জন্য গিয়ে এক গর্ভবতী মহিলা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করায় তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় মানুষদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর জখম অবস্থায় ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা মহিলা।

মহিলা জানিয়েছেন, ২৫ শে জুন দুপুর বারোটা নাগাদ মালদা শহরের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই ডাক্তারবাবু একটি কেবিনে ঢুকিয়ে চিকিৎসার নামে তাঁর শ্লীলতাহানি করে। তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারছিলাম ডাক্তারবাবু আমার সঙ্গে অভব্য আচরণ করছেন। আমি বাধা দিতে গেলে আমার মুখ চেপে ধরা হয়। আমার গোঙানির শব্দ পেয়ে আমার স্বামী ছুটে এলে তাকেও ব্যাপক মারধর শুরু করে অভিযুক্ত ডাক্তার। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকেও মারধর করেন তিনি। আমি গর্ভবতী জেনেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর আমাদের দুজনকেই নার্সিংহোমের একটা ঘরে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে।

নির্যাতিতার স্বামী বলেন, “আমার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় মালদার ওই নার্সিং হোমে তাঁকে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানেই চিকিৎসার নামে আমার স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয়। আমরা বাধা দিলে সিকিউরিটি ডেকে ডাক্তারবাবু আমাদের দুজনকে মারধর করেন। আমাদের দুজনকেই টেনে হিচঁড়ে নার্সিংহোমের একটি ঘরে তালা বন্ধ করে রেখে দেওয়া হয় দীর্ঘক্ষণ। পরবর্তীতে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে। আমরা আতঙ্কিত। সম্পূর্ণ ঘটনা জানিয়ে আমার স্ত্রী ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন অভিযুক্ত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। তাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াটসঅ্যাপ এবং এসএমএস এ যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও উত্তর মেলেনি।

তবে এই নার্সিংহোমেরই অন্য এক কর্ণধার ডাক্তার এম প্রামাণিক বলেন, “আমি তখন ওটিতে ছিলাম তাই বিস্তারিত কিছু জানি না। তবে শুনেছি, একটা গন্ডগোল হয়েছে। ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে আমার কাছে প্রাথমিকভাবে যে খবর আছে, তাতে এই অভিযোগ সত্যি নয়। ওই রোগী ও তার স্বামীর সঙ্গে সামান্য বচসা হয়েছিল মাত্র।

ইংরেজবাজার থানার আইসি শান্তনু মৈত্র জানিয়েছেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

তবে ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত পুলিশ সেভাবে সক্রিয় না হওয়ায় ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। অভিযুক্ত ডাক্তার প্রভাবশালী হওয়ায় চাঁচলের এই দম্পতি কি আদৌ বিচার পাবেন ? সে দিনের কথা মনে করে এখন আতঙ্কেও ভুগছেন গর্ভবতী ওই মহিলা ও তাঁর পুলিশকর্মী স্বামী।

এ দিকে আইএমএ এর মালদা শাখার সভাপতি সিডি বসাক বলেন, দিশারি নার্সিংহোমের মালিক ডাঃ এসএন শর্মার বিরুদ্ধে থানায় একটা অভিযোগ হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। যদি আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ জানাতে চায় জানাতে পারে। তাহলে আমরা অ্যাডভাইসরি কমিটির কাছে সেই অভিযোগ পাঠিয়ে দেব। কোনও ডাক্তারের বিরুদ্ধে যদি এমন অভিযোগ ওঠে, এবং যদি তার সত্যতা থাকে তবে তা খুবই নিন্দনীয়।

Comments are closed.