বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

তক্ষুনি রক্তের দরকার ছিল ছোট্ট আরমানের, ত্রাতা হলেন বৈকুণ্ঠ

কৌশিক দত্ত বর্ধমান : সাড়ে চার বছরের ছেলেকে নিয়ম করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন জামিলা বিবি। ডাক্তারদের পরামর্শ মতো নির্ধারিত সময় অন্তর রক্ত দিয়েই যে বাঁচিয়ে রেখেছেন কোলের সন্তানকে। নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সংসারে এর জন্য চলে নিত্য  লড়াই। এ বারও অন্যথা হয়নি তার। বৃহস্পতিবার বিকেলে কাটোয়ার কৈথন গ্রাম থেকে আরমান শেখকে নিয়ে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে এসেছিলেন জামিলা বিবি।

এসেই জানতে পারেন, আরমানের যে গ্রুপের রক্ত দরকার, সেই ‘ও পজিটিভ’ রক্ত নেই কাটোয়া হাসপাতালের ব্লাডব্যাঙ্কে। তাই ব্লাডব্যাঙ্ক থেকে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয় ‘ও পজিটিভ’ গ্রুপের রক্তদাতা নিয়ে আসতে হবে রোগীর পরিবারকে। এ সব জেনে ওয়ার্ডে ফিরে যান জামিলা। গিয়ে দেখতে পান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে তাঁর সাড়ে চার বছরের ছোট্ট ছেলের। সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্ডের নার্সদের জানালে তাঁরা জানান, খুব দ্রুত রক্ত দিতে হবে আরমানকে। না হলে তার প্রাণ সংশয় হতে পারে।

সন্তানকে বাঁচাতে ফের ব্লাড ব্যাঙ্কে ছুটে যান জামিলা বিবি। সেখানে উপস্থিত কর্মীদের একরকম হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি শুরু করেন মা। মায়ের আকুতিতে নড়ে যান ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মী বৈকুণ্ঠ রায়। সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন, তিনিই রক্ত দেবেন। প্রাণ বাঁচাবেন ছোট্ট শিশুর। ভাগ্যক্রমে বৈকুণ্ঠবাবুরও ও পজিটিভ গ্রুপের রক্ত।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। অন্য কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গেই সংগ্রহ করেন বৈকুণ্ঠবাবুর রক্ত। তারপর তা দেওয়া হয় আরমানকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুস্থ বোধ করে আরমান। হাসি মুখে ছেলের মাথায় স্নেহের হাত বোলাতে বোলাতে তখন চোখের জল মুছছেন জামিলা বিবি।

পরে বৈকুণ্ঠবাবু বলেন, “একটা ছেলের প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে মায়ের কান্নায় নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। তাই তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি আমিই রক্ত দেব।”

আরমান সুস্থ বোধ করায় স্বস্তির শ্বাস ফেলেছেন কাটোয়া হাসপাতালের ডাক্তারবাবুরাও। বলছেন, “”আমরা তো সাধ্যমতো চেষ্টা করি প্রত্যেকটা রোগীর জন্যই। বৈকুণ্ঠবাবু এ যাত্রা কাজটা সহজ করে দিলেন আরও।”

Comments are closed.