রবিবার, জানুয়ারি ১৯
TheWall
TheWall

ফণী আতঙ্কে দিঘা শঙ্করপুর ছাড়ার হিড়িক পর্যটকদের

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর : সকাল থেকেই মেঘলা আকাশহালকা ঝোড়ো হাওয়ায় রীতিমতো ফুঁসে উঠেছে সমুদ্র। অন্য সময় সমুদ্রের এমন রূপ দেখতে দিঘা মন্দারমণিতে পর্যটকের ঢল নামলেও, এ বার ছবিটা সম্পূর্ণ অন্য। ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন ফণী। এই আতঙ্ক ও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে পর্যটকশূন্য দিঘা তাজপুর শঙ্করপুর মন্দারমণির সমুদ্রসৈকত।

আজ সকাল থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের সৈকতগুলিতে শুধু নজরে এসেছে পুলিশ ও প্রশাসনের চরম ব্যস্ততা। অন্যদিকে সকাল হতেই হোটেল গুলিতে পর্যটকদের ব্যস্ততা হোটেল ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য। যে যেভাবে পেরেছেন, ট্রেনে বাসে সমুদ্র সৈকত ছাড়ার চেষ্টা করেছেন ঘুম থেকে উঠেই। সিঁথি থেকে দিঘা বেড়াতে গিয়েছিলেন জয়দেব গোস্বামী। জানালেন, তাঁর চার দিন বুকিং ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বললেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে কে আর বিপদে পড়তে চায় বলুন? যে কোনও মুহূর্তে আছড়ে পড়তে পারে ফেনি, তাই কাল রাতেই সব গুছিযে নিয়েছি। আজ কেবল ভোর হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম।

আরেক পর্যটক রেজাউল করিম খানও কলকাতা থেকে দিঘা শঙ্করপুর বেড়াতে এসেছিলেন চারদিনের ছুটি নিয়ে। কিন্তু আজই ফেরার ট্রেন ধরলেন। তাঁর কথায়, “সমুদ্রে নামতে দিচ্ছে না। সমুদ্রের কাছে যেতে দিচ্ছে না। এখানে থেকে আর লাভ কী?” হোটেলগুলোও অবশ্য বুকিং নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের সচেতন করার পাশাপাশি আজ উপকূলের গ্রামগুলিতেও মাইক নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে প্রশাসন। সকাল থেকেই তৎপর কোস্ট গার্ড ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম। জেলাশাসক পার্থ ঘোষ জানান, ইতিমধ্যেই নির্বাচনী বিধি তুলে নেওয়া হয়েছে। উপকূলের সমস্ত স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই স্কুলগুলি ও আয়লা সেন্টারগুলিকে উদ্ধার কেন্দ্র হিসেবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। কোনও বড় বিপর্যয় হলে মানুষকে যাতে দ্রুত এখানে আশ্রয় দেওয়া যায় তার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

তিনি বলেন, “উপকূলের পাঁচটি ব্লকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সব দিক দিয়ে সতর্ক রয়েছি আমরা। ওড়িশা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও অনবরত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের রিপোর্টের উপরেও লক্ষ রাখা হচ্ছে।”

সব মিলিয়ে ফণী আছড়ে পড়ার আতঙ্ক আর প্রশাসনের কড়া সতর্কতায় চেনা সৈকতের অন্য রূপ।

 

Share.

Comments are closed.