শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

খ্রিষ্টান মতে চার হাত এক হল প্রিয়ঙ্কা-নিকের, আতস বাজির রোশনাইয়ে রাজকীয় মেজাজ উমেদ ভবনে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যোধপুরের ঐতিহ্যশালী উমেদ ভবন প্যালেসে হাজার আলোর রোশনাই। রাজকীয় ভবন রাজার মেজাজেই সেজে উঠেছে। ‘দেশি গার্ল’-এর বিয়ে বলে কথা। তার উপর বিদেশি বর। শনিবার সন্ধেয় খ্রিষ্টান মতে চার হাত এক হল গ্ল্যামারাস তারকা জুটি প্রিয়ঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাসের। পাপারাৎজিরা ওঁৎ পেতে থাকলেও সন্ধে অবধি বিয়ের কোনও ছবিই প্রকাশ্যে আসেনি। পরে ইনস্টাগ্রামে মেহেন্দির ছবি পোস্ট করেন প্রিয়ঙ্কা নিজেই।

বেশ কিছুদিন ধরেই উমেদ ভবনে সাজো সাজো রব। বিয়ের নির্ঘণ্ট নিয়ে স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত না দিলেও মেহেন্দি ও সঙ্গীতের একপ্রস্থ অনুষ্ঠান যে আগেই হয়ে গিয়েছে সেটা বলাই বাহুল্য। আজ হল খ্রিষ্টান মতে বিয়ে। আগামিকাল রবিবার, ভারতীয় রীতিনীতি মেনে ফের ছাদনাতলায় যাবেন তারকা জুটি।

আত্মীয় ও বন্ধু সমাগমে আজকের অনুষ্ঠান ছিল বেশ জমাটি। বিয়েতে বর-কনে দুজনেই বিদেশি ডিজাইনার রাল্ফ লরেনের পোশাক পরেছিলেন। দুই দাদা কেভিন ও জো, ছোট ভাই ফ্র্যাঙ্কি এবং শ্যালক সিদ্ধার্থ চোপড়া নিকের গ্রুমসমেন হয়েছিলেন।

ইনস্টাগ্রামে মেহেন্দির অনুষ্ঠানের জমকালো ছবি পোস্ট করে প্রিয়ঙ্কা লিখেছেন, “আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর দিকটা হল দুই পরিবারের একাত্ম হওয়া। সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও আমরা একে অপরকে শ্রদ্ধা করি। ভারতীয় নারীর কাছে বিয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ রেওয়াজ হল মেহন্দি। স্বপ্নের মতো করেই আমরা সব রীতি পালন করছি। ”

হলুদ জমির উপর লাল, সবুজ, নীল নানা রঙের রামধনু তুলে রাজস্থানি বধূর মতোই সেজেছিলেন প্রিয়ঙ্কা। নিকের পরনে ছিল সাদা কুর্তা-পাজামা। ভারতীয় রীতি মেনেই হয়েছে মেহেন্দির অনুষ্ঠান।

৩৬ বছরের প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে ২৭ বছরের নিকের প্রেম নিয়ে জলঘোলা তো কিছু কম হয়নি, তাঁদের ডেট থেকে হাত ধরে ক্যামেরার সামনে পোজ, রসায়নের মুচমুচে তাজা খবর সবসময়েই থেকেছে শিরোনামে। এখন সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় হল তারকা জুটির বিয়ের ভেন্যু। দীপিকা-রণবীর বেছেছিলেন আল্পস পর্বতের কোলে লেক কোমোর ধার ঘেঁষে ইতালির রোম্যান্টিক ওয়েডিং স্পট ‘ভিলা দেল বলবিয়েনেল্লো’, রূপে-গুণে যার কোনও কমতিই নেই। তবে বিয়ের জন্য ‘দেশি গার্ল’ বেছেছেন দেশের মাটিকেই।

প্রিয়ঙ্কা ও তাঁর পরিবারের অতি পছন্দের জায়গা রাজস্থানের যোধপুরের উমেদ ভবন প্যালেস। নামেই রাজকীয়, অন্দরে প্রবেশ করলে ইতিহাসের সঙ্গে স্থাপত্যের এক মনকাড়া যুগলবন্দী। সেই সঙ্গে বিলাসব্যসনের অফুরন্ত ভাণ্ডার। পাহাড়ে ঘেরা নীল-সবুজ লেক কোমোর নৈসর্গিক শোভা না থাকুক, মরু শহরে রাজপুতদের বীরত্বের ইতিহাস নিয়ে মাথা তুলে স্বগর্বে অতিথিদের আপ্যায়ণ করে উমেদ ভবন।

 

Comments are closed.