শুক্রবার, নভেম্বর ২২
TheWall
TheWall

সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে পুরসভায় দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূল কাউন্সিলরের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া পুরসভার দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ বার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন দলেরই এক কাউন্সিলর। ঘটনার জেরে রীতিমতো অস্বস্তিতে শাসকদলের জেলা নেতৃত্ব। দলের কাউন্সিলরের এই মন্তব্যকে পুরপ্রধান পাত্তা দিতে নারাজ। তবে পুরুলিয়া জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনায় কটাক্ষ করতে ছাড়েননি।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে পুরসভার সাফাই বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে সরব হন পুরুলিয়া পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রবিশঙ্কর দাস। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলা জুড়ে স্বচ্ছতা নিয়ে নানা পরিকল্পনা নিচ্ছেন, তখন তাঁদের এই পুরসভা সাফাইয়ের জন্য নিজস্ব গাড়ি থাকলেও অযৌক্তিকভাবে বাইরে থেকে গাড়ি ভাড়া করে এনে ভুয়ো বিল করে টাকা তুলছে। অথচ কর দিচ্ছেন যাঁরা, সেই সব সাধারণ মানুষ কোনও পরিষেবা পাচ্ছেন না। খাতায় কলমে পরিষ্কার করার কথা বললেও যেখানে সেখানে পরে রয়েছে জঞ্জাল। তিনি বলেন, ‘‘আমাদেরই দল পুরসভা চালাচ্ছে। কিন্তু পরিষেবা যে শিকেয় উঠেছে ও দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে সেটা আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি।’’

সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল কাউন্সিলরের এই লাইভ প্রচার হতেই সরগরম হয়ে ওঠে গোটা জেলা। তোলপাড় পুরুলিয়া পুরসভাও। পুরপ্রধান শামিম দাদ খান অবশ্য বলেন, ‘‘কে কোথায় কী বলেছেন আমি জানি না। তবে আমার কাছে কেউ লিখিতভাবে কোনও অভিযোগ করেননি। পুরসভার কাজও খুব ভালভাবেই চলছে। আমরা শতকরা একশো শতাংশ আবর্জনা পরিষ্কার করতে পারছি, এটা বলছি না। তবে আশি শতাংশ আবর্জনা যে সাফাই হচ্ছে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।’’ তিনি জানান কারোও কোনও অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে তাঁকে জানাতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কিছু বললে তার দায় তাঁর নয়।

এ দিকে পুরপরিষেবা নিয়ে তৃণমূলের কাউন্সিলর সরব হওয়ায় এই ইস্যুতে ময়দানে নেমে পড়েছে বিজেপিও। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বিবেক রাঙা বলেন, ‘‘ওঁদের দলের সবাই দুর্নীতিটা খুব ভাল জানে। কিন্তু পরিষেবা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। সেটাই আমরা অনেকদিন ধরে বলতে চাইছি। এখন ওঁদের কয়েকজন নিজেরাই এই কথা বুঝতে পারছেন। তাঁরাই প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছেন।’’

বিজেপির এই কটাক্ষকেও গুরুত্ব দিতে নারাজ পুরুলিয়া পুরসভার পুরপ্রধান।

 

Comments are closed.