বিশ্ব জুড়ে থাবা বসাচ্ছে হার্টের রোগ! কী ভাবে সামলে রাখবেন হৃদয়কে?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাদের হৃদযন্ত্রটির হাবভাব বোঝা শক্ত। দিব্যি চলছে। সপ্তাহান্তের আড্ডা, নেমন্তন্ন বাড়ি, লং ড্রাইভ— কোথাও কোনও সমস্যা নেই। আচমকাই বুকের উপর যেন হাতি চেপে বসার মতো চাপ, শ্বাসকষ্ট এবং দৌড় এমারজেন্সির দিকে। পৃথিবী জুড়ে বাড়ছে হার্টের রোগ। অল্প বয়সেও ছাড় মেলে না। তাই সাবধান হতে হবে অনেক আগে থেকেই।

    শনিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালন করা হয়েছে ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে। ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, সময়ের অভাবে শরীরচর্চায় ফাঁকি— নানা কারণেই হৃদরোগের আক্রমণ ধেয়ে আসতে পারে যখন-তখন।

    ইউরোপ, আমেরিকার মতো দেশে যেখানে হার্টের অসুখের প্রবণতা কমছে, সেখানে আমাদের দেশে হার্ট অ্যাটাকের কারণে মৃত্যুর হার হু হু করে বেড়ে চলেছে।

    হার্টের ক্ষেত্রে প্রধান ছ’টি রিস্ক ফ্যাক্টর হল— ওবেসিটি, ডায়াবিটিস, হাইপার টেনশন বা হাই ব্লাডপ্রেশার, হাই কোলেস্টেরল, ধূমপানের অভ্যেস এবং হার্টের রোগের পারিবারিক ইতিহাস। এদের মধ্যে একমাত্র ধূমপানের অভ্যেসটাই সম্পূর্ণ ভাবে মানুষের নিজের হাতে। ধূমপান থেকে নিজেকে একেবারে সরিয়ে রাখলে হার্টের অসুখের আশঙ্কা অনেকটা কমানো যায়। অন্য তিনটি রোগ অর্থাৎ ডায়াবিটিস, ব্লাডপ্রেশার এবং কোলেস্টেরল— তিনটেই লাইফস্টাইল এবং পারিবারিক সূত্রে পাওয়া। জিনকে পালটানো যায় না। কিন্তু লাইফস্টাইল পরিবর্তন সম্ভব।

     সম্প্রতি এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে যে আমাদের দেশে প্রতি লক্ষ মানুষের মধ্যে ২০৯.১ জন হার্ট অ্যাটাকে মারা যান,অথচ ১৯৯০ সালে মৃত্যুহার আগে ছিল ১১৫.৭। গত ২৬ বছরে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর হার বেড়েছে শতকরা ৩৪ শতাংশ।

    কী ভাবে সামলে রাখবেন হৃদয়কে?

    লো কার্বস ডায়েট: বাঙালির খাওয়া মানেই ভাত-রুটি দিয়ে পেট ভরানো— এমন স্বভাব বদলে প্রোটিন বেশি, ফলমূল-সব্জি ঠাসা একটা ডায়েটে অভ্যস্ত হয়ে উঠুন। চিনিও এড়িয়ে চলুন যতটা সম্ভব। হার্টকে সুরক্ষিত রাখতে এর চেয়ে ভাল আর কিছু নেই।

    ধূমপানে না: আধুনিক জীবনে আজকাল সিগারেট খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এই স্বভাব না বদলালে হৃদরোগের সম্ভাবনাও কোনও দিন এড়ানো যাবে না।

    নুন কম: রোজ খাবারে নুনের পরিমাণ কমিয়ে দিন।এর পাশাপাশি আপনার জাঙ্ক ফুড খাওয়াও বন্ধ করুন।

    চিনি ও কৃত্রিম মিষ্টি খাবেন না। পরিবর্তে টাটকা ফল, মাছ ও চিকেন খান। আর অবশ্যই পর্যাপ্ত জল।

    ফার্স্ট ফুড নৈব নৈব চ: ফাস্ট ফুড, প্রিজার্ভড ফুড এড়িয়ে চলুন। তেল খাবার ব্যাপারেও নিয়ম মেনে চলুন। সয়াবিন তেল, অলিভ অয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল আর অল্প সর্ষে তেলে রান্না খাবার খান।

    ডার্ক চকোলেট: ডার্ক চকোলেটের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ফ্ল্যাভোনয়েড হার্টকে ভাল রাখে। তবে যথেচ্ছ ডার্ক চকোলেট শরীরের জন্য ক্ষতিকর। প্রতি দিন নিয়ম করে রাতে খাবার খাওয়ার পর এক টুকরো ডার্ক চকোলেট খান, এতে উপকার পাবেন।

    মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের হার্ট অ্যাটাক বেশি হয়— এই ধারণার কোনও জায়গা নেই এখন। যদিও, শারীরিক ভাবে মেয়েদের হৃদযন্ত্র অনেকটাই সুরক্ষিত। বিশেষত, নারী যত দিন অবধি সন্তান ধারণে সক্ষম থাকে, সেই সময় ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাব এই মারণ রোগ থেকে অনেকটাই আগলে রাখে। মেনোপজ়ের চার-পাঁচ বছর পরও সেই রক্ষাকবচ থেকে যায়। কিন্তু তার পরই হৃদরোগের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের পার্থক্য প্রায় থাকে না বললেই চলে। তাই চল্লিশ পেরোলেই মহিলাদের বাড়তি যত্ন নেওয়া উচিত নিজের শরীরের প্রতি। পরিমিত খাওয়াদাওয়া, হেলদি লাইফস্টাইল, নিয়মিত এক্সারসাইজ় এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর চেকআপ অনেকটাই সামলে রাখতে পারে হৃদযন্ত্রকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More