শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

স্যালাইনের চ্যানেল খুলতে গিয়ে বর্ধমান মেডিক্যালে আঙুল কাটল দু মাসের শিশুর

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান : এ বার স্যালাইনের চ্যানেল খুলতে গিয়ে একটি দু মাসের শিশুর হাতের আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগ উঠল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুল বুঝেছেন শিশুটির অভিভাবকরা। কারণ শিশুর আঙুল কেটে বাদ যায়নি। চ্যানেলে খুলতে গিয়ে আঙুলে কেটে গেছে মাত্র।

গত রবিবার মঙ্গলকোটের শিমুলিয়া গ্রামের দু মাসের শিশু ইমরান শেখকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়। আমাশার সমস্যায় ভুগছিল সে। সে দিন থেকেই শিশু ওয়ার্ডের চারতলায় চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। শিশুর পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার এক জুনিয়র ডাক্তার তার হাতের স্যালাইনের চ্যানেল বদল করতে যান। তখনই অসাবধানে ওই শিশুর ডান হাতের বুড়ো আঙুলের ওপরের দিকের অংশ কেটে বাদ চলে যায়।

বিষয়টি জানতে পেরে হইচই শুরু করে দেন শিশুটির অভিভাবকরা। ওই শিশুর বাবা সিটু সেখের অভিযোগ, জুনিয়র ডাক্তার তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা।

কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেপুটি সুপার অমিতাভ সাহা জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরেই তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় আধিকারিকের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। জানা গেছে, শিশুটির আঙুলের উপরের অংশ কেটে গেছে ঠিকই কিন্তু আঙুল বাদ যাওয়ার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, “খবর পাওয়া মাত্র শিশুটিকে সার্জারি বিভাগের ডাক্তারবাবুরা দেখেছেন। গুরুতর কোনও সমস্যা নেই শিশুটির।”

২০১৫ সালে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের এসএনসিইউ ইউনিটে একটি সদ্যোজাত শিশুর স্যালাইনের চ্যানেল সংলগ্ন ব্যান্ডেজ কাটতে গিয়ে আঙুলটাই কেটে ফেলেছিলেন ওই ওয়ার্ডের নার্স। শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা রাজ্য জুড়ে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। সাসপেন্ড করা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট নার্সকে।

Comments are closed.