শনিবার, অক্টোবর ১৯

তিন তালাকের পরেই বধূর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য রায়গঞ্জের গ্রামে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু আবার সেই তিন তালাক। মঙ্গলবারই দেশের সংসদে পাশ হয়েছে তিন তালাক বিল। তার ঠিক একদিনের মধ্যেই রায়গঞ্জের গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতে এক বধূকে মারধর করে তিন তালাক বলা হয় বলে অভিযোগ। বুধবারের রাতের ওই ঘটনার পর আজ সকালে নুরবানুর (২৫) ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হল। সর্বসমক্ষে স্বামী তিন তালাক বলাতেই কি অভিমানে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই বধূ ? এই প্রশ্ন যেমন উঠছে, পাশাপাশি খুনের সন্দেহও গাঢ় হচ্ছে। কারণ বুধবারই নাকি তিন তালাকের হুমকি পেয়ে কাতর হয়ে ওই বধূ ফোন করেছিলেন তাঁরা মাকে। তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে এমনই আশঙ্কার কথা জানিয়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ বিষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ সুন্দরলাল। তাস খেলা নিয়ে প্রায় দিনই নাকি স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ লেগে থাকতো সুন্দরলালের। অভিযোগ, স্ত্রী তাস খেলার বাধা দেওয়ায় বুধবার রাতে স্ত্রীকে মারধর করে সে। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের সামনেই স্ত্রীকে তিন তালাক দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছ থেকে নুরবানুর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

পড়শিদের অভিযোগ, মারধরের পর শ্বাসরোধ করে নুরবানুকে খুন করে সুন্দরলাল ও তার বাবা মা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ওই বধূর স্বামী শ্বশুর ও শাশুড়ি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চার বছর আগে ইটাহার থানার ডামডোলিয়া গ্রামের বাসিন্দা নুরবানুর সাথে বিয়ে হয় রায়গঞ্জের গৌরী গ্রামপঞ্চায়েতের দক্ষিণ বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ সুন্দরলালের৷ স্বামীর তাস খেলা নিয়ে স্ত্রী নুরবানুর সঙ্গে মাঝেমধ্যেই চরম বিবাদ লেগে থাকত তার। স্ত্রীকে ব্যাপক মারধরও করত মহম্মদ সুন্দরলাল। দিনের পর দিন অত্যাচারের মাত্রা বাড়ছিল।

এরমধ্যে একবার মহম্মদ সুন্দরলাল তার স্ত্রীকে তালাকও দেয়। সে কথা নুর তাঁর বাবা মাকে জানালে তাঁরা এসে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকেদের সঙ্গে কথা বলে। চারদিন আগে গ্রামে এই নিয়ে একটি সালিশি সভাও হয়। সালিশি সভাতেই জানা যায় মহম্মদ সুন্দরলাল স্ত্রী নুরবানুকে একবার তালাক দিয়েছিল। বুধবার রাত দশটা নাগাদ বচসা চলার সময় ফের মহম্মদ সুন্দরলাল তাঁর স্ত্রীকে তিন তালাক দেয়।

অভিযোগ, এরপরই নুরবানু তাঁর মাকে ফোন করে বলেন, “শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে বাঁচাও।” সকাল হতেই নুরের পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন দক্ষিণ বিষ্ণুপুর গ্রামে। তাঁরা এসে দেখতে পান বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গাছে ঝুলছে তাঁদের মেয়ের দেহ।

পুলিশ জানিয়েছে, “নুরকে খুন করা হয়েছে, নাকি সর্বসমক্ষে স্বামী তিন তালাক দেওয়ায় সে অভিমানে আত্মঘাতী হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা দু রকম অভিযোগই পেয়েছি।”

Comments are closed.