শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

কোচিং সেন্টার দুরাশা, ভরসা ছিল ইউটিউব, ডাক্তারির এন্ট্রান্সে সফল দুই ভাই

কিরণ মান্না, পূর্ব মেদিনীপুর: অভাব তো আছেই। তার সঙ্গে জুড়ে থাকা হাজার প্রতিকুলতা। তাও স্বপ্নটা ফিকে হয়ে যেতে দেয়নি কখনও। অভাবের সঙ্গে নিত্য লড়াই করতে করতেই লালন করেছে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটাকে। অবশেষে স্বপ্নপূরণ।

বাবা দিন মজুর। চাষের কাজ করেন মাঠে। সামান্য আয়ে স্কুলের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াও কঠিন ছিল। তবু হয়ে গেছে কোনও মতে। শিক্ষকরা সাহায্য করেছেন দু হাত ভরে। ২০১৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৮.৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করেছিল বাড়ির বড় ছেলে তন্ময় পন্ডা। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটাকে সরিয়ে রেখেই ফিজিক্স অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছিল মহিষাদল রাজ কলেজে। কিন্তু আর্থিক বাধায় এগোনো হয়নি। পড়া বন্ধ হয়ে যায় মাঝপথেই।

২০১৮ সালে ৯২.৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে তন্ময়ের ছোট ভাই তমাল। তারপরেই এক নতুন চ্যালেঞ্জ। দুই ভাই ঠিক করে ফেলে ঘরে বসেই তৈরি হবে সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। ডাক্তার হবেই তারা। মহিষাদলের প্রত্যন্ত কেশবপুর গ্রামে বসে শুরু হয় লড়াই। নামী কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়া আকাশ কুসুম। কষ্টেসৃষ্টে জোগাড় করে ফেলে একটা মোবাইল ফোন। আর কিছু দরকারি বইপত্র। মেধা তো তাদের ঈশ্বরদত্ত।

প্রস্তুতির জন্য ইউটিউবে কোচিং ক্লাসের পাঠ নেওয়া শুরু করে। প্রায় দু ঘণ্টা ধরে ভিডিও ক্লাস শোনার পর প্রশ্ন পত্র নিয়ে ঘড়ি ধরে নিজেরাই মক টেষ্ট দিত। কোনও প্রশ্ন না পারলে আবার ইউ টিউবের সাহায্য। এ বার সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় তন্ময়ের র‍্যাঙ্ক ১০২৫ আর তমালের ৯৭২। দুজনেই ডাক্তারি পড়বে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে।

খবর শোনার পর থেকেই আনন্দাশ্রু বইছে তরুণ পন্ডা ও মিঠু পন্ডার চোখে। ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন যে এ ভাবে পূরণ করবে দুই ছেলে ভাবতে পারেননি তাঁরা। একই সঙ্গে ঘুম গিয়েছে চিন্তায়। ডাক্তারি পড়ার যোগ্যতা তো অর্জন করেছে দুই ছেলে। কিন্তু পড়াতে পারবেন তো তাঁরা? বলছেন, “আগেরবার তো হল না। পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তন্ময়ের।”

আপাতত সরকারি সাহায্য ও ব্যাঙ্ক ঋণের মাধ্যমে স্বপ্ন সফলের কথা ভাবছেন তাঁরা। আর তন্ময় ও তমাল বলছে, “কিছু না হলে ছাত্র পড়িয়ে তো শুরু করবো আমরা। তারপর দেখা যাক।”

Comments are closed.