মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

কোথাও বরফে ঢাকা ইগলু, কোথাও জানলা বেয়ে জিরাফের উঁকিঝুঁকি, কেমন হয় এই থিম হোটেলের সাজ?

চৈতালী চক্রবর্তী

ভ্রমণপিপাসু বাঙালি। তার বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। আর উৎসবের মরসুম মানেই বাঙালির কাছে হয় কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া, নয়তো ব্যাগ-পত্তর গুছিয়ে সমুদ্র-পাহাড়-জঙ্গলে ঘুরতে যাওয়া। আজন্মকাল ধরে এটাই চলে আসছে। তবে, হালে বাঙালি বং হয়েছে, তার মুখে এখন বাংলার সঙ্গে সঙ্গে ইংরাজির খই ফোটে। ফেসবুক-টুইটারে খুটখুট করতে করতে সে এখন টেক-স্যাভি। তাই গাঁটের কড়ি খসিয়ে বাঙালি তার প্রথাগত দীঘা-পুরী-দার্জিলিঙের মায়া কাটিয়ে এখন গোয়া, কাশ্মীর ছুঁয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশেও।

লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের টিকিট কাটার দিন এখন শেষ। অনলাইনেই পছন্দের ট্রেনের বুকিং হয় তুরন্ত। বিদেশে যেতে হলেও নানা ট্যুর-প্যাকেজ সাজিয়ে হাজির বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি। দু’শো-পাঁচশোর হলিডে হোম মানে বেশ একটা নাক সিঁটকানো ব্যাপার। স্টেটাস সিম্বল ধরে রাখতে দশ থেকে কুড়ি হাজার টাকা ভাড়ার ঝাঁ চকচকে রিসর্ট বুক করতেও বাঙালি এক পায়ে খাড়া। কারণটা কী? কেন এতটা বদল?

আসল কথাটা হল, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন সবকিছুতেই চাই পারফেকশন। কারণ, বাইরে ঘুরতে যাওয়াটা এখন আর জাস্ট একটা হাওয়াবদল টাইপের প্যানপ্যানানি ব্যাপার নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্টেটাস, কালচার, প্যাশন জাতীয় নানা বং কচকচানি। কারণ ঘোরাটাও এখন একটা আর্ট। তাতেও তো চাই কিছু ফ্লেভার! তাই খেতে গেলেও সেলফি-প্রেমী বাঙালি এখন খোঁজে থিম রেস্তোরাঁ। টেবিলে বসে কচাকচ মুরগি-মাটন সাঁটাতে সাঁটাতেই কানে আসবে নামী ব্যান্ডের গান। একটু সেকেলে গোছের মানুষজনের জন্য পরিবেশ হবে লখনউ ঘরানার, আইটি-ফাইটি ঠাঁটবাটের মানুষজনের পছন্দ বেশ নিভু নিভু আলোতে ভৌতিক পরিবেশ, একটু বিজ্ঞানী গছের লোকজনের আবার পছন্দের তালিকায় রয়েছে গাছপালা ঠাসা ইকো-রেস্তোরাঁ। তাই চমক দিতে থিম সর্বত্রই। সে ক্ষেত্রে হোটেল-রিসর্ট গুলোই বা বাদ থাকে কেন। থিম সাজিয়ে হাজির তারাও। মানে ঘোরাটাও হল, আবার ধরুণ আপনি মরু শহরে বসে আলাস্কার বরফের স্বাদও পেলেন।

বিদেশে ঘুরতে ইচ্ছুক আবার থিমের জৌলুষ চাখতেও আগ্রহী এমন মানুষজনের জন্য রইল বেশ কিছু থিম রিসর্টের হদিশ।

ট্রি হোটেল (Tree Hotel, Harads, Sweden)

জঙ্গলে ঘুরতে গিয়ে ট্রি-হাউসে থাকার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। তবে যদি আধুনিক সব ব্যবস্থা নিয়েই গাছের উপর চড়ে থাকা যায় বেশ কয়েকটা দিন, তাহলে কেমন হয়? সেই স্বাদ পূরণ করতে হলে যেতেই হবে সুইডেনের ট্রি-হাউস রিসর্টে। লুলে নদীর ঠিক ধার ঘেঁষে মাটি থেকে ৪-৬ মিটার উচ্চতায় কাঠের আসবাবে ঠাসা ট্রি-রুম আপনাকে মুগ্ধ করবেই। ঘর, ডাইনিং রুম, হলঘর সবই ১৯৩০-৫০ সালের সুইডিশ আভিজাত্যকে মনে করাবে।

রিসর্টের চারপাশ ঘিরে রয়েছে জঙ্গল। ছোট ছোট কাঁচের আউটডোর শোভা পাচ্ছে গাছের মাথায়। রাত হলেই এলইডি আলোতে ঝলমল করে ওঠে গোটা এলাকা। শুকনো পাতার মরমর ধ্বনিতে এক আলাদাই মাধুর্য তৈরি হয় গোটা রিসর্টে।

ইগলু ভিলেজ (Kakslauttanen Igloo Village, Finland)

এতদিন গল্পের বইয়ে বা গুগলে গিয়ে ইগলু দেখেছেন। সত্যিকারের ইগলুর স্বাদ চাখতে হলে যেতেই হবে ফিলন্যান্ডের ইগলু ভিলেজে। এই রিসর্ট দু’ধরণের ইগলু তৈরি করেছে পর্যটকদের জন্য। বরফের ইগলু, যেখানে পুরোপুরি বরফে মোড়া ছোট ছোট ইগলু ধাঁচের বাড়ি। তবে ভিতরের পরিবেশ উষ্ণ ও আরামদায়ক।

আর এক ধরণ হল কাঁচের বা গ্লাস ইগলু। যেখানে ছোট ছোট বাড়িগুলি পুরোটাই কাঁচের। বিছানায় শুয়ে আকাশ দেখা যায়। আর সঠিক সময় ধরে গেলে সুমেরু প্রভা বা নর্দান লাইটের সঙ্গেও সাক্ষাত হবে আপনার। এই ইগলু থেকে বেরিয়ে কুকুরে টানা স্লেজ গাড়িতে চড়েও চারপাশটা ঘুরে দেখতে পারেন। এমন ব্যবস্থাও রেখেছে রিসর্ট। খানাপিনার জন্য রাখা আছে বেশ পারদর্শী শেফ। রাত হলেই সারি সারি পাইন গাছের ফাঁকে তৈরি ইগলু গুলিতে ঝলমলে আলো জ্বলে ওঠে। গোটা পরিবেশটাই হয়ে ওঠে মায়াবী।

জিরাফ ম্যানর (Giraffe Manor, Nairobi, Kenya)

ধরুণ রিসর্টের ডাইনিং রুমে বসে বেশ জমিয়ে নাম না জানা কোনও কুইজিন চাখছেন, এমন সময় জানলা গলে আপনারই ঠিক ঘাড়ের কাছে শ্বাস ফেলল একটা লম্বা গলা জিরাফ, তাহলে কেমন হয়? গোটা ব্যাপারটাই বেশ থ্রিলিং তাই না! নাইরোবির লাঙ্গাটা এলাকায় ‘সাফারি কালেকশন’-এর উদ্যোগে তৈরি জিরাফ ম্যানর এমন অভিজ্ঞতাই দিয়ে আসছে পর্যটকদের।

১২ একর জমির উপর তৈরি এই বুটিক হোটেলের চারপাশে প্রায় ১৪০ একর বিস্তৃত এলাকা জুড়ে রয়েছে জঙ্গল। প্রতিদিন সকালে ও রাতে নিয়ম করে জিরাফেরা হোটেলের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। কখনও লম্বা গলা বাড়িয়ে গেস্টরুমে উঁকি মেরে খাবার চায়, কখনও লনে ঘুরে ঘরে পর্যটকদের মনোরঞ্জন করে। বন্যপ্রাণের সঙ্গে মানুষকে একাত্ম করতেই এই বুটিক হোটেলের থিম বানিয়েছে সাফারি কালেকশন। বলা হয়, এখানকার জিরাফেরাও নাকি মানুষের ভাষা বোঝে, পরম মমতায় এরা আপনাকে স্বাগত জানাবে রিসর্টের অন্দরে।

ইকো লজ (Kolarbyn Eco Lodge, Sweden)

যদি দুর্গম অঞ্চলে ঘোরার অভিজ্ঞতা থাকে, ট্রেক করতে স্বচ্ছন্দ হন তবেই ঘুরে আসতে পারেন সুইডেনের ইকো লজে। কারণ, এখানে থাকতে হলে নিজেকেই খেটে খেতে হবে। সব সুবিধাই থাকবে কিন্তু নিজের কাজ নিজেকেই করে নিতে হবে। ঘন জঙ্গলের মধ্যে একেবারে অচেনা, আনকোড়া পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে এই রিসর্ট। এখানে গেলে মনে হবে পথ হারিয়ে কোনওরকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন আপনি।

রিসর্টের ঘরগুলি বানানো কাঠ, গাছ, লতা-পাতা দিয়ে। ভিতরে কোনও ইলেকট্রিসিটি নেই, জলও ভরে আনতে হবে একটু দূর থেকে। আগুন জ্বালানোর জন্য কাঠ কাটতে হবে নিজেকেই। যদিও সব বন্দোবস্ত করাই থাকবে। এই লজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল, কাঠের তৈরি ছোট্ট এক চিলতে ডাইনিং রুমে টিম টিমে মোমবাতির আলোয় ডিনার। রাত হলে বেশ একটা ভৌতিক আবহ তৈরি হবে চারদিকে। মনে রাখবেন, নিজের স্ন্যাকসের জোগাড় কিন্তু নিজেকেই করতে হবে।

প্রপেলার আইল্যান্ড (Propeller Island, Berlin, Germany)

১৯৯৭ সালে জার্মান মিউজিশিয়ান এবং চিত্রশিল্পী লার্স স্ট্ররসচেন বার্লিনে নিজের জন্য একটি বাড়ি বানান। পরে সেই বাড়িরই কিছু ঘর নানা ভাবে সাজিয়ে গেস্টরুম হিসেবে ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। লার্সের মনে হয় প্রথাগত গেস্টরুমের বদলে যদি অন্য রকম কিছু করা যায়। তাই বাড়ির কোনও ঘরকে তিনি সাজালেন দুর্গের আদলে, কোনও ঘরে বসানো হল সারি সারি আয়না, কোনও ঘরের রং হল কমলা, তার দেওয়াল থেকে ঝুলছে অজস্র ক্রস, আবার কোনও ঘরের দেওয়াল হল ভাঙাচোড়া। এই বাড়ির তিনি নাম দিলেন প্রপেলার আইল্যান্ড সিটি লজ।

পরবর্তী কালে জনপ্রিয়তা বেড়ে এই লজের ঘরের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়। নিয়ে আসা হয় নিত্য নতুন আরও থিম। লজের কোথাও বানানো হয়েছে ভৌতিক পরিবেশ, কোথাও ঘরগুলি অপারেশন থিয়েটারের মতো, কোথাও রয়েছে জেলখানার আদল আবার কোনও ঘরে রয়েছে ন্যুড আর্ট।

পসেইডন, সমুদ্রে তলায় রিসর্ট (Poseidon, somewhere below the sea, Fiji)

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক বা ডিসকভারি চ্যানেল দেখে দেখে যদি সমুদ্রের নীচের পরিবেশ সম্পর্কে আপনার আগ্রহ জেগে ওঠে তাহলে চলে যেতেই পারেন ফিজির পসেইডনে। সমুদ্রের নীচে সারি সারি অ্যান্টিক কাঁচের ঘর, প্রবাল প্রাচীরের উপর সাজানো। মনে হবে পৃথিবীর বাইরে কোনও স্বপ্নের জগতে এসে পড়েছেন।

রিসর্টের ভিতরে রাখা হয়েছে পাঁচ তারা হোটেলের মতো বন্দোবস্ত। স্পা, জিম থেকে মেডিটেশন সেন্টার কী নেই। বেডরুমে বসেই চারদিকের কাঁচের ঘেরোটোপে দেখতে পাবেন মাছ, স্টার ফিশ-সহ নানা সামুদ্রিক প্রাণি। যাদের এতকাল টিভিতেই দেখে এসেছেন। কপাল ভাল থাকলে হাঙরের দেখাও পেতে পারেন।

শুধু তাই নয়, পসেইডনে রয়েছে থিয়েটার, লাইব্রেরি, গল্ফ কোর্স, কনফারেন্স রুম থেকে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের জন্য বিশেষ ওয়েডিং চ্যাপেলও।

ম্যাজিক মাউন্টেন হোটেল (Magic Mountain Hotel, Huilo Huilo Reserve, Chile)

রূপকথার গল্পের সেই ম্যাজিক প্রাসাদের কথা মনে আছে? পাহাড়ের উপর দুর্গ, গায়ে শ্যাওলা ধরে রয়েছে। ভিতরে থাকে কোনও এক ভয়ানক ম্যাজিসিয়ান যে জাদু-মন্ত্রে সবাইকে পাথর বানিয়ে দেয়। অনেকটা সেই গল্পেরই ধাঁচে চিলির প্যাটাগোনিয়ান রেনফরেস্টের মাঝে গড়ে তলা হয়েছে ম্যাজিক মাউন্টেন হোটেল।

পাহাড়ের উঁচু চূড়ার মতো হোটেল, গায়ে অজস্র গাছপালা, কাঠের ছোটো ছোটো ঘর, ঘোরানে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে ডাইনিং হলে। হোটেলের গা বেয়ে চলে গিয়েছে ঝর্ণা। গোটা পরিবেশটাই আপনাকে সেই রূপকথার গল্পের প্রাসাদের কথা মনে করাবে।

রেনফরেস্টের মাঝে হওয়ায় আকাশে চাইলে দেখা মিলবে ঈগলের, বাইরে বেরোলে যেতে হবে সন্তর্পনে। কারণ চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে পুমা (ছোটো চিতা)। ঘরের ভিতর দিয়ে খাড়া উঠে গিয়েছে বড় বড় গাছের গুঁড়ি। খাবারও সার্ভ করা হবে কাঠের থালা বাটিতেই।

অ্যাডরেরে অ্যামেল্লাই (Adrere Amellal, Siwa Oasis, Egyp)

মিশরের মরু পরিবেশে আপনাকে মরুদ্যানের স্বাদ এনে দেবে এই রিসর্ট। চারদিকে ধূ ধূ মরুভুমি, তার মাঝে মাথা উঁচিয়ে রয়েছে এই রিসর্ট। কোনও ইলেকট্রিসিটি নেই, মার্বেল ফ্লোর নয়। সব ঘরই খোলামেলা ঠিক কোনও দূর্গের মতো।

রিসর্টের চারদিকে রয়েছে কৃত্রিম ভাবে তৈরি স্বচ্ছ জলাধার, অনেকটা মরুদ্যানের মতোই। অন্তত ৪০টি ঘর রয়েছে রিসর্টে। প্রতিটি ঘর নিখুঁত ভাবে সাজানো। ইলেকট্রিসি না থাকার কারণে সন্ধে হলেই আপনার ঘরে জ্বলে উঠবে নানা ডিজাইনের মোমবাতি। রিসর্টের কোনও কোনও জায়গায় খোলা আকাশের নীচেও বিছানা পাতা রয়েছে। সেখানে শুয়েই মরুভূমির পড়ন্ত আলোর শোভা দেখতে পাবেন পর্যটকেরা। মরুদ্যানের ফ্লেভার আনতে লাগান সার সারি খেজুর গাছও আপনার চিত্ত বিনোদন করবে।

কাপ্পাডোকিয়া কেভ স্যুটস (Cappadocia Cave Suites, Turkey)

আদিম গুহা মানবের জীবনে যদি ফিরে যেতে চান তাহলে একবার ঘুরেই আসুন তুরস্কের কাপ্পাডোকিয়া কেভ স্যুটে। পুরোপুরি গুহার বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গোটা রিসর্ট এবং রিসর্টের প্রতিটি ঘরে। কোথাও ঘরের ভিতরেই নুড়ি, পাথর ঠাসা, আবার কোথাও ঘরের ভিতর রয়েছে ছোট্ট কোনও জলাশয়।


রিসর্টের কোথাও আবার আগ্নেয়গিরির বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ঘরের সিলিং অনেক নীচু, প্রায় মাথা স্পর্শ করবে। তবে ঘরগুলির ভিতরের ব্যবস্থা একেবারে আধুনিক। বিছানা, আসবাব থেকে সব কিছুই ফ্যাশনেবল। এখানকার শেফের বানানো খাবারও নাকি খুবই সুস্বাদু।

আইস হোটেল (Ice Hotel, Jukkasjärvi, Arctic Circle)

আপনার কি অল্পেতেই ঠা্ণ্ডা লেগে যায়? চিন্তা নেই আর্কটিক মহাদেশের এই আইস হোটেলের ভিতরের তাপমাত্রা একেবারেই উষ্ণ ও আরামদায়ক। খাট থেকে আসবাবপত্র সবই তৈরি বরফ দিয়ে। অসাধারণ কারিগরি দক্ষতায় প্রতিটি আসবাব তৈরি করা হয়েছে।


এই হোটেলটি পুরোপুরি বুটিক হোটেল যেখানে কারিগরি দক্ষতার অসামান্য নিদর্শন মেলে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে কারিগরদের এনে হোটেলটি তৈরি হয়েছে। টর্ন নদী থেকে জল এনেই তৈরি হয় বরফ এবং তা দিয়েই হয় হোটেলের অন্দরসজ্জা। তাহলে আর দেরি কেন, আপনিও ব্যাগ গোছাতে শুরু করে দিন।

Comments are closed.