সোমবার, আগস্ট ১৯

পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগ নেই, তাও ঝুঁকি নিয়েই ন’বছরের খাদিজার অপারেশন করলেন হাসপাতালের ডাক্তারবাবুরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা:  সেই অর্থে বিরল অস্ত্রোপচার হয়তো নয়, কিন্তু যে কোনও জেলা হাসপাতালে এমন অস্ত্রোপচার নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জ। আর তাতেই সসম্মানে উতরে গেলেন বারাসত হাসপাতালের ডাক্তাররা।

ন বছরের খাদিজা খাতুন পেটে অসম্ভব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হয়েছিল বারাসত হাসপাতালে। ইউএসজিতে ধরা পড়ে খাদিজার পিত্তথলিতে পাথর রয়েছে। চমকে ওঠেন ডাক্তাররা। সাধারণত এত ছোট বাচ্চার পিত্ত থলিতে পাথর হয় না। যাই হোক, খুব দ্রুত অপারেশন জরুরি বুঝতে পারেন তাঁরা। কিন্তু বারাসত হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগ নেই। এই অবস্থায় অন্য হাসপাতালে রেফার করে দেওয়াটাই দস্তুর।

কিন্তু খাদিজার বাবা মায়ের আর্থিক পরিস্থিতিই ডাক্তারদের অন্যভাবে ভাবতে বাধ্য করে। বসিরহাট মালতিপুরের বাসিন্দা খাদিজার বাবা মানিক মণ্ডল ডাক্তারদের জানান, ইটভাটায় দিনমজুরি করেন তিনি। বারাসত হাসপাতাল পর্যন্ত সন্তানকে নিয়ে আসতেই কালঘাম ছুটেছে তাঁর। কলকাতার হাসপাতাল পর্যন্ত সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার সাধ্য নেই তাঁর। এরপরেই এখানকার ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত নেন, প্রথা ভেঙেই এই হাসপাতালে ওই শিশুর অস্ত্রোপচার করবেন তাঁরা। এরপরেই দু সপ্তাহ খাদিজাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। তারপর শনিবার সকালে অস্ত্রোপচার হয় খাদিজার। এখন ভাল আছে সে।

বারাসত হাসপাতালের সুপার ডাঃ সুব্রত মণ্ডল জানান, বেশ ঝুঁকি নিয়েই এই অস্ত্রোপচার করেন এখানকার ডাক্তাররা। কারণ নিউমোনিয়া সহ অপুষ্টিজনিত সমস্যাও ছিল খাদিজার। ন বছর বয়সে তার ওজন মাত্র ২০ কেজি। এই সব কিছু মাথায় রেখেই অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।  যাঁর তত্ত্বাবধানে খাদিজার অপারেশন করা হয়েছে সেই ডাক্তার অলোককুমার মৌলিক বলেন, “এত ছোট বাচ্চার এমন অসুখ সাধারণত হয় না। বাচ্চাটির জিনগত রক্তাল্পতাও ছিল। সব মিলিয়ে বেশ ঝুঁকিই ছিল। কিন্তু পরিবারটির আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করেই আমরা এই ঝুঁকি নিতে বাধ্য হই। এখন খাদিজা ভাল আছে। আমরা সবাই খুব খুশি।”

খাদিজার বাবা বলেন, “খাদিজা আমার বড় মেয়ে। আরও একটা মেয়ে আছে আমার। সামান্য টাকা রোজগার করি। তাতে ভাল করে সংসার চলে না। ওকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে অপারেশন করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। ডাক্তারবাবুদের তা জানিয়েছিলাম। ওঁদের জন্যই আমার মেয়েকে ফিরে পেলাম আমি।”

Comments are closed.