রোজার মধ্যেই হিন্দু ঘরের মেয়েকে রক্ত দিয়ে বাঁচালেন ওসমান

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া : রোজা চলছে ওসমান গনি শেখের। ছোট্ট মেয়ে রাখির রক্তের একান্ত প্রয়োজন জানতে পেরে রোজা চলাকালীনই হাসপাতালে ছুটে গিয়ে রক্ত দিয়ে এলেন ওসমান গনি শেখ। জীবন বাঁচল রাখির। নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। ধর্মের নামে রাজনীতির আবহ গোটা দেশে। এই সময়েই ধর্মকে কয়েক কদম পিছনে ফেলে  অনেকটাই  যেন এগিয়ে গেল মনুষ্যত্ব।

পলাশিপাড়ার বাসিন্দা বছর ১০ এর রাখি দাস থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। জীবন বাঁচাতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রক্ত দিতে হয় তাকে। গত কয়েকদিন ধরে হন্যে হয়ে তার জন্য রক্ত খুঁজছেন তার মা তাপসী দাস। কিন্তু শূন্যহাতে ফিরতে হয়েছে একাধিক ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে। কারণ রক্ত শূন্যতায় ধুঁকছে ব্লাডব্যাঙ্কগুলি। একে গরম, তায় ভোটের মরসুমে সেভাবে রক্তদান শিবির না হওয়ায় সব ব্লাড ব্যাঙ্কেই প্রয়োজনের তুলনায় রক্তের সংগ্রহ কম। তাই যে ব্লাডব্যাঙ্কেই গেছেন ফিরে আসতে হয়েছে তাপসীকে। শুনতে হয়েছে, ডোনার নিয়ে আসার কথা। কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে ততক্ষণে রক্তের অভাবে ধুঁকছে তাঁর মেয়ে।

অসহায় মা তাঁর এক প্রতিবেশীকে একজন ডোনার জোগাড় করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তারপরেই যোগাযোগ হয় ওসমান গনি শেখের সঙ্গে। শনিবার কৃষ্ণনগরে পরিবারের জন্য ইদের বাজার করতে এসেছিলেন ওসমান। তাপসীর প্রয়োজন শুনে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে। এখানকার ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত দেন। তারপরেই রক্ত পেয়ে জীবন বাঁচে তাপসীর মেয়ে ছোট্ট রাখির।

এ বার নিশ্চিন্ত তাপসী। যে ভাবে সব শুনে দ্রুত ছুটে এসে তাঁর মেয়েকে রক্ত দিয়েছেন ওসমান, তা দেখে রীতিমতো আপ্লুত তিনি। অন্যদিকে ওসমান ও খুশি এ ভাবে ছুটে আসতে পেরে। বললেন, “আমার একটাই উদেশ্য, রক্তের জন্য যেন কারও প্রাণ না যায়। সবার কাছে আবেদন জানাচ্ছি মানুষের প্রয়োজনে রক্ত দিতে এগিয়ে আসুন সবাই।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More