শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

ঝান্ডা যারই হোক, কাপড় দিচ্ছে মোদীর গুজরাট

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: বিজেপি তো বটেই, দলের নাম তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস যাই হোক না কেন, মোদীর গুজরাটের উপর ভরসা সবার। অন্তত পতাকা তৈরির ক্ষেত্রে।

ভোট আসতেই শুরু হয়ে গেছে পতাকা তৈরির ব্যস্ততা। হাওড়ার উনসানি দক্ষিণপাড়ায় যেমন নাওয়া খাওয়ার সময় পাচ্ছেন না কারিগররা। জানা গেল, সকাল থেকে বসে এক একদিন গড়িয়ে যাচ্ছে সন্ধে। পরের পর কাপড় কেটে মেশিনে জুড়তে জুড়তে। পতাকার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে দলের সিম্বল ছাপানো গেঞ্জি, টুপি ব্যাজও। এক কারখানা মালিক জানান, এ বার  ভোটের মরসুমে অর্ডারপত্র বেশ ভালোই। বাম ডান সব দলই দিচ্ছে পতাকা তৈরির বরাত। ইতিমধ্যেই প্রায় দশ লক্ষ পতাকা তৈরির কাজ পেয়েছেন। রয়েছে আরও পাওয়ার আশা ।

পতাকা তৈরির কাপড় বেশিরভাগই আসছে সুরাট থেকে। অন্য জায়গা থেকে কিছু থান এলেও রাজনৈতিক দলগুলির প্রথম পছন্দই না কি সুরাট থেকে আসা কাপড়। পতাকার রঙ লালই হোক, আর তিরঙ্গা সবাই চাইছেন কাপড় যেন গুজরাটি হয়!

উনসানিতে পতাকা তৈরির কারখানা রয়েছে রাজীব হালদারের। তিনি বলেন, “আসলে সুরাট থেকে আসা কাপড়ের মতো মসৃণ আর মোলায়েম অন্য জায়গার কাপড় নয়। চকচকে এই কাপড়ে পতাকা তৈরি হলে তা অনেক বেশি নজর কাড়ে। দামও তুলনায় সস্তা। তাই সবাই এসে আগে এই কাপড়েরই খোঁজ করছেন।”

মোদীর গুজরাট শুনেও অন্তত এই একটা ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন নেই। পতাকা তৈরি করতে দিতে আসা সিপিএম কর্মী সুদীপ দলুই অবশ্য বিষয়টাকে এ ভাবে দেখতে নারাজ। প্রশ্ন করতেই হাসি খেলে গেল মুখে। ঝটিতি উত্তর, “ আরে বাবা, এর সঙ্গে রাজনীতি জড়াচ্ছেন কেন?  কাপড়টাতো ওখানকার সত্যিই ভালো। আর ব্যবসায়ীরাও তো ওখানকার কাপড়ই কিনে আনেন। আমরা তাই ভালোটাই বেছে নিই।”

এলাকার তৃণমূল নেতা সুশোভন চ্যাটার্জী বললেন, “ আমাদের রাজ্যে চাল ভালো। তাই গুজরাটে সেই চাল যায়। আবার ওখানকার কাপড় ভালো। তাই আমাদের এখানে সেই কাপড় আসে। আর ভালো বলেই সেই কাপড়েই পতাকা তৈরি করতে বলছি। এতে তো অস্বাভাবিকতা কিছু নেই।”

অস্বাভাবিকতা নেই, কিন্তু মজা নিচ্ছেন এখানে পতাকা তৈরির অর্ডার দিতে আসা অনেকেই। এক বিজেপি কর্মী তো বলেই ফেলেন, “খোঁজ নিয়ে দেখুন, তৃণমূলের অর্ডার সবথেকে বেশি। আল্টিমেটলি ভরসা ওখানেই। কী বুঝলেন?”

Comments are closed.