বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

অযোধ্যা নিয়ে রায় যাই হোক, শান্তি বজায় রাখুন, আবেদন হিন্দু, মুসলিম নেতাদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : অযোধ্যায় মন্দির-মসজিদ বিতর্কে আর কিছুদিনের মধ্যে রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। তার আগে শুক্রবার হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের নেতারা জনগণের উদ্দেশে শান্তির জন্য আবেদন জানালেন। শুক্রবারের প্রার্থনার আগে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন মসজিদের ধর্মগুরুরা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় যাই হোক, তা মান্য করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে হবে যে কোনও মূল্যে।

লখনউয়ের শাহি ইমাম তথা ইসলামিক সেন্টার অব ইন্ডিয়ার সভাপতি খালিদ রশিদ ফিরঙ্গি মাহালি এদিন বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট যাই বলুক, তাকে সম্মান দিতে হবে। কোনও উৎসব করা যাবে না। প্রকাশ্যে দোষারোপও করা যাবে না। এমন কিছু বলা যাবে না যাতে অপর সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে। আমাদের যে কোনও মূল্যে শান্তি রক্ষা করতে হবে।” লখনউয়ের ইদগাহে তিনি এই বক্তব্য পেশ করেন। সেখানে ৫০০ জন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ ও ‘গঙ্গা-যমুনা তহজিব’ কোনওভাবেই ধ্বংস করতে দেওয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবারই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ থেকে টুইট করে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায় যাই হোক, সকলেরই তা খোলা মনে গ্রহণ করা উচিত। রায় বেরোনোর পরে দেশে সম্প্রীতির বাতাবরণ রক্ষার দায় সকলকেই নিতে হবে।

অযোধ্যায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একটি ওয়ার্কশপ চলছিল। তারাও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথা ভেবে নভেম্বর মাসে সব কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে।

লখনউয়ের শাহি ইমাম খালিদ রশিদ ফিরঙ্গি মাহালি বলেন, সব সম্প্রদায়ের নেতারাই শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। এটা খুবই সন্তোষজনক বিষয়। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা যায়। এদিন বিকালে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা অযোধ্যায় গিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। উত্তরপ্রদেশ পুলিসহ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বহু গ্রামে দুই সম্প্রদায়ের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। তাঁদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, সংযত থাকুন। একইসঙ্গে স্থির হয়েছে, আগামী কয়েক দিনে অযোধ্যায় বিপুল সংখ্যক রাজ্য পুলিশ ও আধা সেনা নিয়োগ করা হবে।

Comments are closed.