গৌতম চৌধুরী

স্বীকারোক্তিমূলক কান্নাকাটির বিপরীতে জমিয়া উঠিয়াছে বানানো লুকোচুরির বোলচাল। বিপর্যয়ের কারুকার্য লইয়া
তাহার হামবড়াইয়ের আর ইয়ত্তা নাই। অথচ বিপর্যয় তো ডাহা সত্য। তাহার ভিতর দিয়া বহিয়া-যাওয়া মুহূর্তগুলির
ছিরিছাঁদ যে দুমড়াইয়া মুচড়াইয়া এক টিকরম-বিকরম চেহারা ধরিবে, তাহাও সত্য। তাহা হইলে আর সমস্যা কীসের!
সকল কথা কি এত বুঝাইয়া বলিবার মতো নাকি? সমস্যা না-থাকিলে দুনিয়া নিষ্প্রাণ। সমস্ত বাক্যের আয়োজন
মানেহীন। তবে কি বাক্যের স্বার্থেই পর্দা তুলিয়া তুলিয়া কামরায় কামরায় এহেন উঁকিবাজি? এত সব কুটিল তৎপরতার
বিনিময়ে কী বা প্রয়োজন এত বাক্যের? এক অনন্ত নীরবতাই নাহয় নামিয়া আসুক রণছোড় রাত্রিময়দানের মতো।
কিন্তু সেই রাত্রি কি প্রকৃতই নীরব? মানুষের আর্ত হাহাকারগুলি চাপা দিবে কে! চুপ চুপ, সেসব প্রসঙ্গ নাজায়েজ। প্রান্তর
হইতে রাতারাতি ধুইয়া সাফ করিয়া দিতে হইবে সব রক্তচিহ্ন। তাহাতে যদি চরিত্র ভাঙিয়া পড়ে, পড়ুক। ভাষা হইয়া
উঠে অর্থহীন, তাহাই সই। শব্দ তো আসলেই হাবিজাবি কিছু ধ্বনি। অক্ষর তো আসলেই হিজিবিজি কিছু চিহ্ন …