অভিজিৎ বেরা

পৃথিবী আসলে এক সারি সারি বিষণ্ণ মুখের শপ। দোকানি গিয়েছে খেতে। অরক্ষিত ক্যাশ।কে নেবে বিষণ্ণতা?
বাজারে মন্দা বড়। বিক্রিবাটা কম।  সারিসারি বসে আছে বিষণ্ণ সেলসবয়।  ক্ষয়াটে চোখগুলি কাস্টমার খোঁজে।
 কেউ নেই। শুধু র‍্যাকে র‍্যাকে র‍্যাপ করা মুখেদের স্যাক।
 #
পৃথিবী তবুও ঘোরে।  সূর্যের চারিধারে।  রাস্তায় আলো নেই। ভোল্টেজ লো।  ছায়া ঘোরে—গোলাকার। 
দুদিকে ঈষৎ চাপা। ঐখানে বেশি ভিড়—সেইসব মুখেদের। 
ঐখানে খুঁজে দেখি আমার নিজের মত কোনও মুখ আছে কিনা। গোলাকার, দুদিকে চাপা। দেখি সবতে আমার মুখ, 
আঠা দিয়ে সাঁটা। দিকেদিকে আমি আমি, সেলসবয়, দোকানিটি।  আমাকে দেখছি আমি সহস্র চোখে।  ভয় হয়। 
দুহাতে দুকান চেপে দৌড়ে পালাই।  মুখগুলি পিছু ডাকে,  হুবহু আমার স্বর, হুবহু আমার গলা… দুকানে ধাক্কা মারে। 
পৃথিবী জুড়ে কারা নাম ধরে ডাকে।  খাঁ খাঁ মলে শব্দগুলি প্রতিধ্বনি করে।
 #
পৃথিবী আসলে এক বিষণ্ণ মুখের শপ। দোকানি গিয়েছে খেতে। ফাঁক পেয়ে মুখগুলি র‍্যাক থেকে নামে।
 এস্কালেটর বেয়ে রাস্তায় আসে।  সার সার হেঁটেচলে প্রধান সড়ক বেয়ে। সামনে খাদের ধার।  পৃথিবীর শেষ।
একে একে ঝাঁপিয়ে পড়ে অনন্তের ঝোঁকে। সবই তো আমার মুখ বাতাসেতে ভাসে। শীতশীত করে।  হাওয়া নেই। 
মৃতদের অনুভূতি যেন গায়ে জাগে।  মাথার ভেতরে কারা কান্নাকাটি করে। 
নিজের ভেতরে নামি। ধাপে ধাপে নেমে গেছে সিঁড়ি।  কারা যেন বসে বসে বিষাদ করে আমার নকল স্বরে। 
পাশে যাই। তিনটি বৃদ্ধ আমি তারস্বরে কাঁদে।
 #
পৃথিবী আসলে এক সার সার বিষণ্ণ মুখের শপ।
দোকানি ফিরেছে সবে।
নেবে?
 #
বিষণ্ণতা।